ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত হরমুজ প্রণালীকে বৈশ্বিক সংকটের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনটি সম্ভাব্য পথ সামনে এসেছে—দুটি সামরিক এবং একটি কূটনৈতিক। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথম পরিস্থিতি: আঞ্চলিক একক সামরিক উদ্যোগ
এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের উদ্যোগে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রণালী খুলে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে এসব দেশের সামরিক সক্ষমতা ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় সীমিত। এতে সংঘাত আরও বাড়তে পারে এবং ইরান পাল্টা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।
এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং মধ্যস্থতার সুযোগও কমে যেতে পারে।
দ্বিতীয় পরিস্থিতি: যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান
এ ক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এতে সীমিত শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে চাপ দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য হয়।
তবে এই জোটের ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে ভিন্ন অবস্থানের কারণে। এতে সামরিক পরিকল্পনার কার্যকারিতা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরাসরি মধ্যস্থতাকারী না হয়ে যোগাযোগ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।
তৃতীয় পরিস্থিতি: আংশিক বন্ধ রেখে আলোচনার কৌশল
সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হচ্ছে, ইরান প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ রেখে সেটিকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। ইতোমধ্যে কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে ইরান তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
এই কৌশলের মাধ্যমে ইরান ধাপে ধাপে ছাড় দিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা করতে পারে, আবার নিজেদের অবস্থানও ধরে রাখতে পারে।
এই ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ধীরে ধীরে প্রণালী খুলে দেওয়ার মতো সমঝোতা তৈরি হতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
এই সংকটে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সীমিত থাকায় ইসলামাবাদ একটি কার্যকর যোগাযোগ চ্যানেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক ভূমিকা ভবিষ্যৎ সমাধানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এই তিনটি পথ একে অপরের বিকল্প হলেও বাস্তবে একই সঙ্গে প্রভাব ফেলছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক দরকষাকষির পথই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান।
















