ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ৩২তম দিনে গড়িয়েছে। তেহরান ও ইসফাহানসহ বিভিন্ন শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চলমান রয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
ইরানের ভেতরে পরিস্থিতি
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে টোল আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র ও বিদ্যুৎ স্থাপনা ধ্বংস করা হতে পারে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানও পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এক হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর একজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা
যুদ্ধ থামাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ বৈঠক করছে এবং জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সময়ে একটি সামরিক জোট ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ বেড়েছে। একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছে এবং বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনা ঘটছে। কিছু দেশ সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মার্কিন প্রশাসন বলছে, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে তারা এগিয়ে রয়েছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণভাবে কিছু সেনাসদস্য এই যুদ্ধ নিয়ে আপত্তিও তুলেছেন।
ইসরায়েলের বক্তব্য
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুদ্ধের অর্ধেকের বেশি লক্ষ্য অর্জন করা হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গবেষণা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
অন্য অঞ্চল
লেবাননে বিস্ফোরণে শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইরাকে একটি দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হয়, তবে এতে একজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন।
জ্বালানি ও অর্থনৈতিক প্রভাব
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে, যা জ্বালানি সংকট তৈরি করছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধের ৩২তম দিনে সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে, তবে উত্তেজনা কমার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
















