জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে: চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৬১
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের প্রস্তুতির সিংহভাগ সম্পন্ন করেছে। আজ সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করে এই প্রস্তুতির অগ্রগতি তুলে ধরেন।
সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের জাতীয় নির্বাচনে দেশের মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৬১টি। এই কেন্দ্রগুলোতে ভোট কক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি। এর মধ্যে পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট ভোট কক্ষের সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং মহিলাদের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। এছাড়া, প্রাথমিকভাবে ১৪টি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রে প্রায় ১২ হাজার ভোটকক্ষ থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ভোটার রাখা হয়েছে, যা ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ হিসেবে বিবেচিত। প্রয়োজন হলে ভোট ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পরবর্তীতে এই সংখ্যা সামঞ্জস্য করা হতে পারে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও বিধিমালা:
সচিব আরও জানান, নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও নতুন রাজনৈতিক দল এবং দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন প্রক্রিয়া এই সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ২২টি রাজনৈতিক দলকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ।
একটি প্রতীকের বিষয়ে জটিলতা নিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, বিধিমালায় শাপলা প্রতীক না থাকায় ন্যাশনালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান পার্টিকে (এনসিপি) সেই প্রতীক দেওয়ার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন স্ববিবেচনায় অন্য একটি প্রতীক দিয়ে দ্রুতই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে।
আরপিও সংশোধনী ও জোটের প্রতীকের দাবি:
নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এ জোটের মনোনীত প্রার্থীর নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বিধান নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিএনপি। তারা জোটের যেকোনো দলের প্রতীকে ভোট করার আগের বিধানটি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কমিশন পরবর্তীতে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আরপিও সংশোধনের আগে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় দেখা যায়নি।
অন্যান্য অগ্রগতি:
নির্বাচনী প্রস্তুতির সার্বিক অগ্রগতি বিষয়ে সচিব বলেন, বর্তমানে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক দল ও পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন এই সপ্তাহে শেষ হলেই প্রস্তুতি শতভাগে পৌঁছাবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বা অন্য কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকে তিনি বলেন, কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্বের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে এবং সকলের সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
শনিবার রাতে নির্বাচন ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে সচিব বলেন, পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করেছে এবং তদন্ত চলছে। ইসি তার কাজে মনোনিবেশ করছে।
















