ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ আঘাত হানবে অন্ধ্র উপকূলে
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর ২০২৫:
বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বাংশে সৃষ্ট নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘মোন্থা’। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আরও উত্তর-পশ্চিমমুখী হয়ে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য আঘাতস্থল হিসেবে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
থাইল্যান্ড কর্তৃক প্রস্তাবিত এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মোন্থা’র অর্থ হলো ‘সুগন্ধি ফুল’। বিশ্বজুড়ে ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের এই প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও) দ্বারা পরিচালিত হয়। ২০০৪ সাল থেকে ডব্লিউএমও পাঁচটি বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার (আরএসএমসি) সমন্বয়ে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানিয়েছেন,
আগামীকাল (মঙ্গলবার) প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে এবং ভারতের তামিলনাড়ু উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।
নামকরণের গুরুত্ব কেন?
একসময় ঘূর্ণিঝড়গুলোর কোনো নাম ছিল না। যেমন, বাংলাদেশের ১৯৭০ বা ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়গুলো নামবিহীন ছিল। এর ফলে, পরবর্তীতে আঘাতহানা ঝড়ের শক্তি, ধরন বা গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য জানা কঠিন হতো। আবহাওয়াবিদদের ঝড়ের আঘাতের সময় বা তারিখ বের করে তার বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ। দ্রুত তথ্য সরবরাহ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্যই নাম রাখার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা অনুমোদন করে ডব্লিউএমও/এসকাপ প্যানেল অন ট্রপিক্যাল সাইক্লোনস। এই প্যানেলের সদস্যরাষ্ট্রগুলো হলো—ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, ইয়েমেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
নামকরণের নীতিমালা:
সর্বশেষ ২০১৮ সালে আরএমএসসি কর্তৃক নতুন নামের তালিকা করা হয়, যেখানে ১৩টি সদস্য দেশ প্রত্যেকে ১৩টি করে নাম প্রস্তাব করে। নামকরণের ক্ষেত্রে কিছু কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা হয়:
১. নামগুলো অবশ্যই রাজনীতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি বা লিঙ্গ নিরপেক্ষ হতে হবে।
২. বিশ্বের কোনো অঞ্চলের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন নাম দেওয়া যাবে না।
৩. নাম অবশ্যই সংক্ষিপ্ত, সহজে উচ্চারণযোগ্য ও সর্বোচ্চ আটটি বর্ণের হতে হবে।
৪. নাম দেওয়ার পাশাপাশি এর সঠিক উচ্চারণও দিতে হবে।
সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ইংরেজি নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা নির্ধারণ করা হয়। যেমন, ইংরেজি বর্ণমালা অনুযায়ী বাংলাদেশের নাম সবার আগে এবং ইয়েমেনের নাম সবার শেষে আসে।
















