প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে এবং তার ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এই মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী স্থান পেয়েছেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন রাজনৈতিক মহলে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সংক্রান্ত সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো।
বর্তমান রাষ্ট্রপতির অবস্থান ও আইনি জটিলতা: বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।
- পদত্যাগের গুঞ্জন: গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, নতুন সরকার গঠনের পর তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি।
- আইনি সীমাবদ্ধতা: তিনি পদত্যাগ না করলে বা অভিশংসিত না হলে ২০২৮ সালের আগে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো আইনি সুযোগ নেই। বিএনপি শুরু থেকেই তাকে অপসারণের বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে আসছিল, তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী ঘটে তা দেখার বিষয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা: সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, বরং সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।
- যোগ্যতা: প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক, কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে।
- মনোনয়ন: অন্তত দুইজন সংসদ সদস্যের (একজন প্রস্তাবক ও একজন সমর্থক) সমর্থন প্রয়োজন।
- নির্বাচন পরিচালনা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। যদি মাত্র একজন প্রার্থী থাকেন, তবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
আলোচনায় যারা: রাজনৈতিক মহলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন:
- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে।
- নজরুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল মঈন খান: বিএনপির এই দুই অভিজ্ঞ নেতার নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দলের মহাসচিব হিসেবে তার নামও কোনো কোনো মহলে আলোচিত হচ্ছে।
পরবর্তী ধাপ: সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। মো. সাহাবুদ্দিন যদি পদত্যাগ করেন, তবে নির্বাচন কমিশন দ্রুত তফসিল ঘোষণা করবে। অন্যথায়, ২০২৮ সাল পর্যন্ত বর্তমান রাষ্ট্রপতিই তার পদে বহাল থাকবেন।
















