দুই বছরের শ্বাসরুদ্ধকর অবরোধ ভেঙে দেওয়ার পর দক্ষিণ কোরদোফানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ডিলিংয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনের আভাস মিলছে। সুদানের সেনাবাহিনী শহরটিকে ঘিরে থাকা অবরোধ অপসারণের পর বাজার খুলতে শুরু করেছে, রাস্তায় ফিরছে মানুষের চলাচল।
দীর্ঘ সময় ধরে আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস এবং সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট–উত্তর শহরটিকে ঘিরে রেখেছিল। সরবরাহ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট তৈরি হয়। স্থানীয়রা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হন।
বাজারে ফিরছে প্রাণ
অবরোধ তুলে নেওয়ার পর সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা গেছে স্থানীয় বাজারে। বহু মাস পর আবারও দোকানে দেখা যাচ্ছে সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এক ব্যবসায়ী জানান, আগে বাজার কার্যত অচল ছিল, এখন ঢেঁড়স, আলু, মিষ্টি আলু, মরিচ ও লেবুসহ বিভিন্ন পণ্য মিলছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও অর্থনৈতিক ক্ষতি এখনো কাটেনি।
স্বাস্থ্যখাতে সংকট তীব্র
খাদ্য সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও স্বাস্থ্যখাত এখনো ভেঙে পড়া অবস্থায়। প্রধান হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধের ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এক বাসিন্দার দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসা বন্ধ থাকায় অনেকের অবস্থার অবনতি হয়েছে।
ড্রোন হামলার আতঙ্ক
অবরোধ ভাঙলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ, শহরটি প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে। এসব হামলায় অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাসিন্দারা জানান, আকাশে ড্রোন দেখা দিলেই সবাই আশ্রয়ের জন্য দৌড়ান। অনেক সময় ঘরের ছাউনি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, আগুন লেগে মানুষ ঘরছাড়া হচ্ছেন। এক নারী বলেন, খাবার সামনে নিয়েও ড্রোনের শব্দ শুনলে সব ফেলে পালাতে হয়।
স্থানীয়দের মতে, অবরোধ তুলে নেওয়া পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হলেও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং অব্যাহত হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে ডিলিংয়ের দুর্ভোগ সহজে শেষ হবে না।
















