৭৭ বছর আগে যে ভয়াবহতা তিনি দেখেছিলেন, তা আজও ভুলতে পারেননি আয়েশ ইউনুস। ১৯৪৮ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি পরিবারসহ পালিয়ে যান ফিলিস্তিনের বারবারা গ্রাম থেকে, যা তখন ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চলের অংশ ছিল। আজ ৮৯ বছর বয়সে তিনি আবারও তাঁবুতে বসবাস করছেন, এবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায়।
আয়েশ স্মরণ করেন, “আমি উটের পিঠে দাদীর সঙ্গে যাচ্ছিলাম বালুর রাস্তা ধরে, আর কাঁদছিলাম।” তখন তীব্রভাবে চলছিল প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। “আমরা জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছিলাম। নিজেদের রক্ষা করার মতো শক্তি ছিল না, তাই সবাই গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে পড়ি,” বলেন তিনি।
বারবারা গ্রামটি আঙ্গুর, গম, ভুট্টা ও যবের জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে পুরো গ্রামবাসী ঘরবাড়ি ছেড়ে দক্ষিণ দিকে পালাতে বাধ্য হয়। উটের পিঠে করে আয়েশ ও তাঁর দাদি প্রায় সাত মাইল দূরে মিশরের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে পৌঁছান, যা পরে গাজা উপত্যকা নামে পরিচিত হয়।
১৯৪৮-৪৯ সালের সেই যুদ্ধে প্রায় সাত লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় দুই লাখ আশ্রয় নেন এই ক্ষুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে। “আমরা কাঠের টুকরো দিয়ে দেয়ালের পাশে ঘর বানানোর চেষ্টা করেছিলাম,” বলেন আয়েশ। পরে জাতিসংঘের উদ্যোগে গড়ে ওঠা তাবু শিবিরে তাঁরা আশ্রয় নেন।
আজ, ২০২৫ সালে, আয়েশ আবারও তাবুতে ফিরে এসেছেন। গত বছরের মে মাসে, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের সাত মাস পর, রাফাহ শহরের বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পর তাঁর চারতলা বাড়িটি, যেখানে তাঁর সন্তান ও নাতি-নাতনিরা বাস করতেন, ধ্বংস হয়ে যায়।
তিনি মনে করেন, সম্ভবত ট্যাংকের গোলায় বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়। এখন তাঁর আশ্রয় একটি ছোট সাদা ক্যানভাসের তাবু, যেখানে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি আবারও শরণার্থী হয়ে বেঁচে আছেন।
















