সমকামী সম্পর্কের ভেতরে আধিপত্য ও অধীনতার এক ভিন্নধর্মী কাহিনি নিয়ে নির্মিত নতুন চলচ্চিত্র পিলিয়ন দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে তীব্র মতভেদ সৃষ্টি করেছে। কেউ একে কোমল ও অনুভূতিপ্রবণ প্রেমকাহিনি হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকের চোখে এটি অস্বস্তিকর ও নিপীড়নের ইঙ্গিতবাহী।
ব্রিটিশ নির্মাতা হ্যারি লাইটনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য এই ছবিতে অভিনয় করেছেন আলেক্সান্ডার স্কারসগার্ড ও হ্যারি মেলিং। কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে দক্ষিণ লন্ডনের এক লাজুক সমকামী যুবক কলিন এবং রহস্যময়, ক্ষমতাধর রে। তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এমন এক কাঠামোয়, যেখানে রে নিয়ন্ত্রণকারী ভূমিকায় আর কলিন স্বেচ্ছায় অধীনতার অবস্থান গ্রহণ করে।
ছবিতে দেখা যায়, রের নির্দেশে কলিন গৃহস্থালি কাজ করে, তার আদেশ মানে এবং সম্পর্কের নিয়মে নিজেকে সঁপে দেয়। কোনো প্রথাগত রোমান্টিক কমেডির মতো সহজ বা হাস্যরসাত্মক পথে না গিয়ে চলচ্চিত্রটি সাহসী ও অপ্রচলিত দৃশ্যভাষায় এগিয়েছে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর থেকে বহু আন্তর্জাতিক সমালোচক ছবিটির প্রশংসা করেছেন। বিভিন্ন চলচ্চিত্র পুরস্কারেও এটি স্বীকৃতি পেয়েছে।
তবে উৎসব সার্কিট ও সাধারণ প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পর একাংশ দর্শক ছবিটির বিপণন ও বাস্তব উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ছবিটিকে আনন্দঘন প্রেমকাহিনি হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও ভেতরের সম্পর্কটি অনেক সময় মানসিকভাবে অস্বাস্থ্যকর ও একতরফা ক্ষমতার প্রয়োগের মতো মনে হয়। সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, ছবিতে সম্পর্কের শর্তাবলি নিয়ে স্পষ্ট সমঝোতা দেখানো হয়নি, যা বাস্তব জীবনের এমন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে যৌনতা ও ঘনিষ্ঠতা বিষয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, চলচ্চিত্রটি সমকামী চামড়াভিত্তিক সংস্কৃতির একটি নির্দিষ্ট রূপকে তুলেছে এবং এটিকে সব ধরনের সম্পর্কের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তাদের মতে, এটি অনেকটাই কল্পনাভিত্তিক এবং ইচ্ছাকৃতভাবেই ধূসর নৈতিক পরিসর রেখে দেওয়া হয়েছে।
নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরাও জানিয়েছেন, ছবিটির উদ্দেশ্য কোনো আদর্শ সম্পর্ক দেখানো নয়, বরং দর্শককে প্রশ্নের মুখোমুখি করা—একটি সম্পর্ক কতটা স্বাস্থ্যকর, ক্ষমতা ও সম্মতির সীমা কোথায়।
সব মিলিয়ে পিলিয়ন মুক্তির পরই স্পষ্ট হয়েছে, এটি এমন এক চলচ্চিত্র যা দর্শকের অনুভূতিকে বিভক্ত করবে। কেউ এতে আবেগী প্রেমের ছোঁয়া খুঁজে পাচ্ছেন, কেউ আবার অস্বস্তি ও প্রশ্নের ভার দেখছেন। এই দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়াই হয়তো ছবিটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।
















