বোগোতা – ভেনেজুয়েলার সীমান্তঘেঁষা কলম্বিয়ার পূর্বাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন কলম্বিয়ার সংসদ সদস্যও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়।
বুধবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, নিহত সবাই ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “দেশ আজ শোকাহত।”
এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহনমন্ত্রী মারিয়া ফের্নান্দা রোহাস নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন সময়। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব প্রয়োজনীয় দায়িত্ব, প্রক্রিয়া ও তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যাতে সঠিক ও দায়িত্বশীল তথ্য দেওয়া যায়।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নিহতদের মধ্যে দুইজন ক্রু সদস্য, একজন জাতীয় সংসদের প্রতিনিধি এবং আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া একজন প্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিমান সংস্থার পরিচালিত ওই ফ্লাইটটি উত্তর সান্তান্দের বিভাগের কুকুতা শহর থেকে ওকানিয়া শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। মাঝপথে বিমানটি রাডার যোগাযোগের বাইরে চলে যায়।
স্থানীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওকানিয়ায় অবতরণের প্রায় ১১ মিনিট আগে বিমানের উচ্চতা হঠাৎ দ্রুত কমে যায়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় পরিবহনমন্ত্রী জানান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দুর্ঘটনা তদন্ত বিভাগ বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত কমান্ড পোস্টও চালু করা হয়েছে।
বিমানটি যে এলাকায় নিখোঁজ হয়, সেটি ঘন জঙ্গলঘেরা ও দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ে।
নিহত যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন দিয়োগেনেস কিন্তেরো, যিনি সংঘাতপীড়িতদের জন্য সংরক্ষিত আসনে নিম্নকক্ষের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একই আসনের প্রার্থী কার্লোস সালসেদো সালাসার।
একজন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা জানান, বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি দুর্ঘটনার একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে।
উল্লেখ্য, ক্যাটাটুম্বো অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার ও সশস্ত্র সংঘাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোকা চাষের ক্ষেত্র রয়েছে, যা কোকেন উৎপাদনের মূল উপাদান।
ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী এই কৌশলগত অঞ্চলটি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে সেখানে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
কুকুতা থেকে ওকানিয়া রুটটি চালু হয় মাত্র গত বছরের জুনে। দীর্ঘদিন অবহেলিত এই অঞ্চলের জন্য বিমান যোগাযোগ চালু হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
















