২০২৬-এর নির্বাচনকে ‘সাংবিধানিক মুহূর্ত’ হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান; রোহিঙ্গা ও পার্বত্য সংকট নিরসনে ঐকমত্যের দাবি
বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল সামরিক শক্তি বা ‘হার্ড পাওয়ার’ নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো ‘অপ্রথাগত নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণের একটি ‘সাংবিধানিক মুহূর্ত’, যা রোহিঙ্গা সংকট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধানের পথ দেখাতে পারে।
২৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর এক বিশ্লেষণে প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘শূন্য-সমষ্টির রাজনীতি’ বা প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার নীতি পরিহার করে ‘ইতিবাচক-সমষ্টির রাজনীতি’তে ফিরে আসতে হবে। চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওন্যাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে নির্বাচনি ইশতেহারে জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের কারণে সৃষ্ট মানবিক ও সামাজিক সমস্যা যদি রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটে রূপ নেয়, তবে তা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
এই সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য তিনটি স্তম্ভ—স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং পারস্পরিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে দলগুলোকে একটি লিখিত আচরণবিধি বা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ স্বাক্ষর করতে হবে, যা প্রাক-অঙ্গীকার কৌশল হিসেবে কাজ করবে। সাইবার নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী গুজব বা ‘ইনফরমেশন ম্যানিপুলেশন’ রোধে দলগুলোর নিজস্ব মনিটরিং সেল থাকা আবশ্যক। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে দলগুলো যদি পারস্পরিক সহনশীলতা ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ সংকট ও বাহ্যিক নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।















