ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। সর্বশেষ জব্দ হওয়া এই জাহাজটি নিয়ে ভেনেজুয়েলা-সংযুক্ত মোট সাতটি তেল ট্যাংকার দখলে নিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানায়, ক্যারিবীয় সাগরে পরিচালিত অভিযানের সময় মোটর ভেসেল সাগিটা নামের ট্যাংকারটি আটক করা হয়। সংস্থাটির দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোর চলাচল ঠেকাতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি জব্দের সময় কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
গত ১০ ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকার জব্দ করা শুরু করে। জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে এক সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন।
এই ঘটনার আগেই ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার দাবি করে বক্তব্য দিতে থাকেন। তাদের যুক্তি, বিশ শতকের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল অনুসন্ধান ও বিনিয়োগের ইতিহাস রয়েছে। তবে ১৯৭১ সালে ভেনেজুয়েলা তেল শিল্প জাতীয়করণ করে এবং ২০০৭ সালে বিদেশি কোম্পানির সম্পদ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ওয়াশিংটনের সমালোচনার জন্ম দেয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের শামিল। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে হবে এবং বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণকে কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন, কারণ কিউবার অর্থনীতির জন্য ভেনেজুয়েলার তেল গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল নিয়েছে এবং তা খোলা বাজারে বিক্রি করে তেলের দাম কমাতে ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক তেল বিক্রি থেকে দেশটি প্রায় ৩০ কোটি ডলার আয় করেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ভেনেজুয়েলার জ্বালানি আইন সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
















