প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বেতন বৈষম্যের অভিযোগ; মেধাবীদের শিক্ষকতায় ধরে রাখার আহ্বান
জাতীয় বেতন কমিশনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও বৈষম্যের প্রতিবাদে এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে সরব হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে শিক্ষকরা এই দাবি জানান।
২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর প্রতি প্রশ্ন তুলে বলেন, যেখানে সরকারে বেশ কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন, সেখানে শিক্ষকদের কেন রাজপথে নামতে হচ্ছে। তাঁরা অনতিবিলম্বে শিক্ষকদের মর্যাদা ও জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী বেতন কাঠামো সংস্কারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে শিক্ষকদের উত্থাপিত মূল পয়েন্টসমূহ:
- আঞ্চলিক তুলনা: সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর (যেমন ভারত) মাথাপিছু আয় কম হওয়া সত্ত্বেও সেখানে শিক্ষকদের বেতন বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ছয়গুণ বেশি। শিক্ষকদের কেন সম্মানজনক অবস্থানে রাখা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
- মেধাবীদের ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ: জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন জানান, শিক্ষকতায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করা এবং ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধাপাচার রোধে যে তিনটি প্রস্তাব (ToR) দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা গ্রহণ করেনি। এটি গবেষণা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে তিনি মনে করেন।
- উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান: সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, সরকারে থাকা শিক্ষক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা দ্রুত তাঁদের দাবিগুলো সরকারের কাছে লিখিতভাবে পেশ করবেন।
শিক্ষকদের প্রধান দাবিসমূহ:
| ক্রম | দাবির বিষয় | লক্ষ্য |
| ১ | স্বতন্ত্র বেতন স্কেল | বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য মর্যাদাশীল কাঠামো। |
| ২ | গবেষণা ও উদ্ভাবনে প্রণোদনা | শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় উৎসাহিত করা। |
| ৩ | মেধাবীদের সুরক্ষা | উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবীরা যেন দেশেই শিক্ষকতা পেশায় থাকতে আগ্রহী হন। |
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে কার্যকর সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে উচ্চশিক্ষা খাতের স্থবিরতা ও অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
















