ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে প্রযুক্তিগত সুরক্ষা; ১৫ লাখ ভোটারের ভোটদান প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ ব্রিফিং
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোটদানের পদ্ধতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে হাতে-কলমে শেখাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে এই প্রশিক্ষণ ও ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি ভোটার এই অ্যাপের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বিশেষ করে প্রবাসী ভোটার ও নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভোটদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই দলগুলোর কারিগরি প্রতিনিধিদের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, আগামীকাল প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মূলত পোস্টাল ব্যালটের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। তার আগেই রাজনৈতিক দলগুলোকে অ্যাপের ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে চায় ইসি।
প্রশিক্ষণ ও ব্রিফিংয়ের সূচি
- সময়: মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত।
- স্থান: নির্বাচন কমিশন সচিবালয় অডিটোরিয়াম (বেইজমেন্ট-২)।
- অংশগ্রহণকারী: প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন ২ জন প্রতিনিধি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনীত প্রতিনিধি।
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের কার্যপ্রণালী
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এই অ্যাপটি মূলত ভোটদান প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রোধে কয়েকটি স্তরে কাজ করবে:
১. রেজিস্ট্রেশন ও ট্র্যাকিং: নিবন্ধিত ভোটাররা অ্যাপের মাধ্যমে তাদের ব্যালট পেপার কোথায় আছে তা ট্র্যাক করতে পারবেন।
২. কিউআর কোড স্ক্যান: ভোটার যখন ডাকযোগে ব্যালট পাবেন, তখন খামের ওপরের কিউআর কোডটি অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্যান করতে হবে। এটি ব্যালটের সত্যতা নিশ্চিত করবে।
৩. ফেসিয়াল ভেরিফিকেশন: ভোটদানের আগে ভোটারকে অ্যাপের মাধ্যমে ‘লাইভনেস চেক’ বা ফেসিয়াল ভেরিফিকেশন করতে হবে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রকৃত ভোটারই ভোট দিচ্ছেন।
৪. ব্যালট রিটার্ন: অ্যাপে ভেরিফিকেশন শেষে ভোটার কাগজের ব্যালটে ভোট দিয়ে সেটি আবার ডাকযোগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।
নির্বাচনি নির্ঘণ্ট ও বর্তমান পরিস্থিতি
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী:
- ২১ জানুয়ারি: প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ।
- ২২ জানুয়ারি: দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু।
- ১২ ফেব্রুয়ারি: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বিশ্বের ১২১টি দেশে ৭ লাখ ৬৭ হাজার প্রবাসীর কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন (যেমন: পুলিশ, আনসার ও নির্বাচনি কর্মকর্তা), তাদের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু হবে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর।















