পঙ্গু হয়ে পড়া ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; ফেব্রুয়ারিতে টাকা পাবেন ক্ষুদ্র আমানতকারীরা
দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা এই খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৭ দশমিক ১১ শতাংশ। মূলত গত দেড় দশকে পিকে হালদারসহ প্রভাবশালী মহলের লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার জেরেই এই ধস নেমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে দেশের ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টির অবস্থাই অত্যন্ত নাজুক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা না থাকায় সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এনবিএফআই খাতের বর্তমান সংকট চিত্র:
| সময়কাল | মোট ঋণ স্থিতি | খেলাপি ঋণের পরিমাণ | শতকরা হার |
| জুন ২০২৫ | ৭৭,০৯২ কোটি টাকা | ২৭,৫৪১ কোটি টাকা | ৩৫.৭২% |
| সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ৭৯,২৫১ কোটি টাকা | ২৯,৪০৯ কোটি টাকা | ৩৭.১১% |
বন্ধ হতে যাওয়া ৯টি প্রতিষ্ঠান: এফএএস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। উল্লেখ্য, এই ৯ প্রতিষ্ঠানের কাছেই পুরো খাতের ৫৫% খেলাপি ঋণ আটকে আছে।
আমানতকারীদের জন্য সুখবর:
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা ৯টি রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র ও ব্যক্তিপর্যায়ের আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগেই তাদের আসল টাকা ফেরত পাবেন।
- ফেরত প্রক্রিয়া: সরকার আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা শুধুমাত্র মূল টাকা ফেরত পাবেন, কোনো সুদ পাবেন না।
- আমানতকারী বৃদ্ধি: অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই খাতে আস্থা কিছুটা ফিরতে শুরু করেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬০ হাজার ৬৬২ জন।
বিআইবিএম-এর সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে অর্থ তছরুপে জড়িয়েছে, তাদের দ্রুত বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়াই অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক।
















