আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এবং ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কাল রোববারের আপিল শুনানি হবে নির্বাচন কমিশনের জন্য ‘রেডলাইন’।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন গত তিনটি (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) দায়সারা ও একপাক্ষিক নির্বাচনের পথেই হাঁটছে। তিনি বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণকারী কেউ সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন। অথচ শত শত আইনজীবী নিয়ে কমিশনে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ইসিও বিভিন্ন ‘ফাঁকফোকর’ দিয়ে তাদের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা নির্বাচনের জন্য অশনিসংকেত।”
দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশন’
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনোভাবেই দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেবে না। আসিফ মাহমুদ বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি তাদের প্রতি নমনীয়তা দেখায়, তবে আমরা রাজপথ এবং আদালত—উভয় ক্ষেত্রেই লড়াই চালিয়ে যাব। রোববারের দিনটি ইসির নিরপেক্ষতা প্রমাণের শেষ সুযোগ। এর ব্যত্যয় ঘটলে আমরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর কর্মসূচিতে যাব।”
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনসিপি শুরু থেকেই একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলে আসছে, যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের কোনো স্থান থাকবে না। কমিশন যদি নিরপেক্ষ থাকতে ব্যর্থ হয়, তবে এনসিপি ইসির সাথে সব ধরণের সহযোগিতা বন্ধ করে দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম।
















