সত্য, ন্যায় ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন নেতৃত্বই ছিল বেগম খালেদা জিয়ার পরিচয়—এমন মন্তব্য করেছেন নাগরিক শোকসভায় অংশ নেওয়া বক্তারা। তাঁদের মতে, খালেদা জিয়ার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনই আগামীর বাংলাদেশের পথনির্দেশক শক্তি হবে।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজীবন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করেছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছিলেন আপসহীন—এমন মূল্যায়ন উঠে আসে তাঁর স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভা থেকে। বক্তারা বলেন, সামরিক ও বেসামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী সংগ্রামে তাঁর অবদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই শোকসভায় দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গবেষক, কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শোকসভা থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
‘তিনি ছিলেন রাজনৈতিক আদর্শ’
সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ কোনো রাজনীতিবিদ ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি রাজনৈতিক আদর্শ। কঠিন সময়েও তিনি অসাধারণ ধৈর্য ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।” তিনি নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তাঁকে জাতির পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। হয়তো তিনি চাইতেন—আমরা সবাই নীতিনিষ্ঠভাবে, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা থেকে একসঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করি।”
‘আদর্শ চির অম্লান’
লেখক ও গবেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলেও তাঁর আদর্শ অম্লান থাকবে। তাঁর দেওয়া মন্ত্রগুলো ধারণ করলে দল ও দেশ রক্ষা পাবে।”
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “আমি সবসময় বলতাম—বেগম খালেদা জিয়া ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। আজও বলছি, বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে।” তিনি তাঁর সততা, দৃঢ়তা, দেশপ্রেম ও পরমতসহিষ্ণুতার কথা তুলে ধরেন।
স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতা
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, “তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতাকে শ্রদ্ধা করতেন। ভিন্নমত ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।”
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, “মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন—তিনি শুধু একটি দলের নেত্রী নন, তিনি মানুষ ও দেশের নেত্রী।”
রাষ্ট্রীয় সম্মান ও উপস্থিতি
শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্তত ২৩টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শোকসভা শেষ হয়। বক্তাদের অভিন্ন বক্তব্য ছিল—যদি বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি।















