৫ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র ও সাড়ে ৬ লাখ গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার না হওয়ায় জননিরাপত্তার ঝুঁকি; ‘জীবনের অধিকার’ লঙ্ঘনের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর আবেদন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসানের দায়ের করা এই রিটে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তার অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দেশে বিদ্যমান নিরাপত্তাহীনতা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় থানাগুলো থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, আইজিপি এবং র্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
অস্ত্র ও গোলাবারুদের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এবং তার পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে অন্তত ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়। সরকার এসব অস্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং পুরস্কার ঘোষণা করা সত্ত্বেও একটি বড় অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় নির্বাচনী পরিবেশ রক্তাক্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিটকারী।
প্রার্থী হত্যাকাণ্ড ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
রিটে সাম্প্রতিক সহিংসতার উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ উসমান হাদিকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনী মাঠকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্য—যেখানে তিনি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে মন্তব্য করেছেন—সেটি রিটে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়।
সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ ও নাগরিক অধিকার
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান তার আবেদনে যুক্তি দেন যে, সরকার কিছু প্রার্থীর জন্য ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বা গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এ অবস্থায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচন করা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জীবনের অধিকার’ (Right to Life)-এর চরম লঙ্ঘন।
রিট আবেদনে প্রার্থনা করা হয়েছে যে, লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং ভোটারদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কার্যক্রম যেন স্থগিত রাখা হয়। আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















