প্রতিবেদন জমা হলেও বাস্তবায়নের দায়িত্ব কে নিবে?
গুম কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে; সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের প্রশ্নে শিকার ব্যক্তি–স্বজন ও বিশ্লেষকের মধ্যে মতবৈষম্য, বিশেষ করে র্যাব বিলুপ্তি ও বিকল্প বাহিনী গঠন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
গুমের দীর্ঘ মত কানধরা ও অনুসন্ধানের পর গঠিত গুম কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও, সুপারিশ বাস্তবায়ন কে করবে—এটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনেরা মনে করেন, দোষীদের বিচারের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের হবে, যা ভবিষ্যতের বিচারে আরও দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে।
গুম কমিশন ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেড় হাজারের অধিক গুমের ঘটনা অনুসন্ধান করেছে। তদন্তে লোমহর্ষক তথ্য ও আয়নাঘরের মতো বাস্তবতার খোঁজ পাওয়া গেছে।
শিকারদের প্রতিক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তা
- গুমের শিকার আইনজীবী আরমান বলেন, কমিশনের প্রতিবেদন সুস্ঠু বিচারের জন্য যথেষ্ট তথ্য দিয়েছে।
- মায়ের ডাক আন্দোলনের আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, নিখোঁজদের তথ্য, সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানার জন্যই কমিশন গঠন হয়েছিল। এখন দোষীদের বিচারের প্রতি গুরুত্ব দেয়া জরুরি।
র্যাব বিলুপ্তি: বিতর্ক ও পরামর্শ
গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কমিশন সুপারিশ করেছে র্যাব বিলুপ্তির—কিন্তু এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন মত আছে।
- নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী চৌধুরী মনে করেন, র্যাবকে আগেই বিলুপ্ত করা উচিত ছিল; তিনি গুম কমিশনের সাথে একমত।
- কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, র্যাব বিলুপ্তির আগে প্রশ্ন করা উচিত—পুলিশের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে কি? যদি না থাকে, তাহলে র্যাবের বিকল্প বাহিনী তৈরি ছাড়া র্যাব বিলুপ্তি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা ঠিক হবে না।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি
বিশেষজ্ঞরা বলেন:
- গুম ঠেকাতে কমিশনের প্রস্তাবিত অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সংস্কারের প্রোগ্রামগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
- প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিকল্প হিসেবে ন্যায় ও মিলনের পথে অগ্রসর হওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যতে গুমের মতো পরিস্থিতি পুনরায় না সৃষ্টি হয়।
















