ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করেছে, দক্ষিণ ইয়েমেনভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি সৌদি আরবে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় অংশ না নিয়ে সোমালিল্যান্ড হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে গেছেন। জোটের অভিযোগ, আমিরাত তাকে গোপনে দেশ ছাড়তে সহায়তা করেছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জোট জানায়, বুধবার গভীর রাতে আল-জুবাইদি ইয়েমেনের আদেন বন্দর থেকে একটি নৌকায় করে সোমালিল্যান্ডের বারবেরা বন্দরে যান। সেখান থেকে তিনি আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বিমানে উঠে প্রথমে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশু হয়ে আবুধাবিতে পৌঁছান। জোটের দাবি, ওমান উপসাগরের আকাশসীমায় বিমানটি কিছু সময়ের জন্য নিজের শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল এবং আবুধাবির আল রিফ সামরিক বিমানবন্দরে নামার কিছু আগে তা আবার চালু করা হয়।
এ ঘটনায় এসটিসি কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ সত্য হলে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে এসটিসি, যাদের পেছনে আমিরাতের সমর্থন রয়েছে বলে সৌদি আরবের অভিযোগ, সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পর দুই মিত্র দেশের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
একসময় ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এসটিসি এখন দক্ষিণ ইয়েমেনে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি তুলেছে। সংগঠনটি সৌদি সীমান্তঘেঁষা হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশ দখল করায় রিয়াদ একে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য লাল রেখা বলে আখ্যা দেয়। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত ৩০ ডিসেম্বর মুকাল্লা বন্দরে বিমান হামলা চালায় এবং ইয়েমেন সরকার আমিরাতি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
পরবর্তীতে সৌদি বিমান সহায়তায় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হাদরামাউত ও আল-মাহরা পুনর্দখল করে। এই প্রেক্ষাপটে এসটিসি জানায়, তারা রিয়াদে আয়োজিত শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে। তবে জোটের দাবি, বুধবার রিয়াদগামী ইয়েমেনি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে এসটিসি প্রতিনিধিদল থাকলেও আল-জুবাইদি সেখানে ছিলেন না।
এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আল-জুবাইদির অনুগত বাহিনীর ওপর আল-দালে প্রদেশে হামলা চালায় এবং ইয়েমেনি সরকারি স্থলবাহিনী আদেনে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস দখল করে।
এদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি আল-জুবাইদিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কাউন্সিল থেকে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে নিযুক্ত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের জানান, তিনি রিয়াদে এসটিসি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং দক্ষিণ ইয়েমেন নিয়ে একটি সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, আল-জুবাইদির কর্মকাণ্ড দক্ষিণের দাবিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং হুথিদের মোকাবিলায় ঐক্য নষ্ট করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন ছাড়ার মাধ্যমে আল-জুবাইদি কার্যত রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সৌদি দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি এখন পলাতক, আর এসটিসির ভেতরে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটতে পারে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ইয়েমেন আলাদা রাষ্ট্রের দাবি পেছনে পড়ে গিয়ে এখন কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের অধীনে ফেডারেল কাঠামো নিয়েই আলোচনা এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















