স্বাস্থ্যসেবার মানে প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
৮ অক্টোবর ২০২৫ | ডেল্টা আউট লুক
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের গড় বেতন সবচেয়ে কম, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অর্ধেকেরও কম এবং উন্নত দেশের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ কম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বেতন বৈষম্য স্বাস্থ্যসেবার মান, দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং চিকিৎসা পেশায় আগ্রহ সৃষ্টি—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় এ সতর্কতা দেন বিশেষজ্ঞরা।
আলোচনার আয়োজন করে অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস, বাংলাদেশ, যেখানে নীতিনির্ধায়ক, স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন।
বাংলাদেশে cর গড় বার্ষিক আয় মাত্র ৩ লাখ টাকা
অধ্যাপক হোসেন জানান, “বাংলাদেশে একজন চিকিৎসকের গড় বার্ষিক বেতন মাত্র ৩ লাখ টাকা, যেখানে যুক্তরাজ্যে এটি ৯৮ লাখ টাকা এবং সিঙ্গাপুরে ১১ লাখ টাকা।”

নার্সদের ক্ষেত্রেও পার্থক্য স্পষ্ট ভারতের একজন চিকিৎসক গড়ে পান ১৬ লাখ টাকা, আর নার্সের বেতন ৬ লাখ টাকা যা বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নেপালেও তুলনামূলকভাবে বেতন বেশি।
দক্ষ জনবল দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছে
ডা. হোসেন বলেন, “এমন বেতন বৈষম্য শুধু পেশাগত উৎসাহ কমায় না, অনেক দক্ষ চিকিৎসক বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হন, যা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”
তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসক-নার্সদের বেতন বৃদ্ধি করলে স্বাস্থ্যখাত শক্তিশালী হবে এবং দক্ষ জনবলের দেশত্যাগ কমবে। সরকার ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
বেতন কাঠামো সংস্কারের দাবি
বক্তারা চিকিৎসা পেশাজীবীদের জন্য আলাদা বেতন নীতি এবং স্বতন্ত্র পে কমিশন গঠনের দাবি জানান।
তারা বলেন,
“বেতন ও ভাতা যৌক্তিকীকরণ করা উচিত এবং প্রতি তিন বছর পরপর তা হালনাগাদ করতে হবে।”
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক একে আজাদ খান বলেন,
“স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। বর্তমান বেতন কাঠামো স্বাস্থ্যসেবার ভিত্তিকে দুর্বল করছে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“সরকারি ও বেসরকারি খাতের বেতনের বৈষম্য শুধু দক্ষতা ও কর্মপ্রেরণায় নয়, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানেও প্রভাব ফেলছে।”
বাংলাদেশে সরকারি খাতের চিকিৎসক ও নার্সদের বেতন দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও কর্মপরিবেশ ও বেতন–ভাতা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক পিছিয়ে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং মানবসম্পদে ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত না হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হতে পারে।
















