Dhaka ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

আগামী মাসে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:০১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

বিদ্যুৎ গ্রিডের ঘাটতি এবং জ্বালানি আমদানির ওপর বাড়তি চাপের মুখে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রূপপুর প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর সুনির্দিষ্ট সহযোগিতা কামনা করেছে সরকার। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভিয়েনায় সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে এক বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। একই সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ করপোরেশন রোসাটমের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়ায় দুটি নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি ত্রুটির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত সমস্যা পর্যালোচনা এবং দ্রুত সমাধানের জন্য রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। বিকল্প হিসেবে ভালভ দুটি পরিবর্তন অথবা দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ভালভ ব্যবহারের বিষয়টিও গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন জানান যে, আগামী মাসেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের আশাবাদ রয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী এই কারিগরি ত্রুটি দূর করতে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।

তবে প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেনের মতে, বর্তমান কারিগরি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আরও কয়েকটি স্তর পার হতে হবে এবং তারপরেই সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে ঠিক কবে নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের মধ্য দিয়ে চুল্লিটি কমিশনিং পর্বে প্রবেশ করেছিল। পাবনার রূপপুরে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি রয়েছে, যার প্রতিটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এবং দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এদিকে বাংলাদেশের এই উদ্যোগের পাশাপাশি বৈশ্বিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতও এক নতুন সম্প্রসারণের যুগে প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘এনার্জি, ইলেকট্রিসিটি অ্যান্ড নিউক্লিয়ার পাওয়ার এস্টিমেটস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯৬ গিগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে ৪১৩টি পারমাণবিক চুল্লির সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩৭৭ দশমিক ১ গিগাওয়াট।

বিশেষ করে মধ্য ও পূর্ব এশিয়াসহ এশীয় অঞ্চলে এই প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বড় আকারের চুল্লির পাশাপাশি ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর বা এসএমআর-এর ব্যবহার বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যা ২০৬০ সালের মধ্যে নতুন সংযোজিত সক্ষমতার প্রায় ২৮ শতাংশ পূরণ করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, রূপপুর প্রকল্পের এই পথচলা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী মাসে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:০১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ গ্রিডের ঘাটতি এবং জ্বালানি আমদানির ওপর বাড়তি চাপের মুখে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রূপপুর প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর সুনির্দিষ্ট সহযোগিতা কামনা করেছে সরকার। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভিয়েনায় সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে এক বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। একই সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ করপোরেশন রোসাটমের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়ায় দুটি নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি ত্রুটির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত সমস্যা পর্যালোচনা এবং দ্রুত সমাধানের জন্য রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। বিকল্প হিসেবে ভালভ দুটি পরিবর্তন অথবা দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ভালভ ব্যবহারের বিষয়টিও গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন জানান যে, আগামী মাসেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের আশাবাদ রয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী এই কারিগরি ত্রুটি দূর করতে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।

তবে প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেনের মতে, বর্তমান কারিগরি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আরও কয়েকটি স্তর পার হতে হবে এবং তারপরেই সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে ঠিক কবে নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের মধ্য দিয়ে চুল্লিটি কমিশনিং পর্বে প্রবেশ করেছিল। পাবনার রূপপুরে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি রয়েছে, যার প্রতিটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এবং দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এদিকে বাংলাদেশের এই উদ্যোগের পাশাপাশি বৈশ্বিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতও এক নতুন সম্প্রসারণের যুগে প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘এনার্জি, ইলেকট্রিসিটি অ্যান্ড নিউক্লিয়ার পাওয়ার এস্টিমেটস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯৬ গিগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে ৪১৩টি পারমাণবিক চুল্লির সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩৭৭ দশমিক ১ গিগাওয়াট।

বিশেষ করে মধ্য ও পূর্ব এশিয়াসহ এশীয় অঞ্চলে এই প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বড় আকারের চুল্লির পাশাপাশি ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর বা এসএমআর-এর ব্যবহার বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যা ২০৬০ সালের মধ্যে নতুন সংযোজিত সক্ষমতার প্রায় ২৮ শতাংশ পূরণ করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, রূপপুর প্রকল্পের এই পথচলা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।