কুষ্টিয়া দিনাজপুর ও চট্টগ্রামে নাশকতার ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
দেশের বিভিন্ন স্থানে সাবেক মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া দিনাজপুর ও চট্টগ্রামে এসব নাশকতার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচন বানচাল ও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ করেই সহিংসতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কুষ্টিয়ায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নাশকতার পাশাপাশি দিনাজপুর ও চট্টগ্রামে সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গতকাল সকালে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা অফিস ভবনের পেছন পাশের জানালা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। নির্বাচন অফিসের নিরাপত্তারক্ষী জানান যে তিনি দোতলায় থাকাকালীন ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে নিচে নেমে স্টোর রুমে আগুন দেখতে পান। অফিসের হিসাবরক্ষকের তথ্যমতে যে কক্ষে আগুন দেওয়া হয়েছে সেটি সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের গুরুত্বপূর্ণ স্টোর রুম ছিল যেখানে ভোটারদের নানাবিধ তথ্য সংরক্ষিত থাকে। অগ্নিকাণ্ডে নথিপত্রের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং সেতাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো আসলামের বাসভবন আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে হেলমেট পরা একদল যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ২০ থেকে ২৫টি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল যুবক এই হামলা চালায়। স্থানীয়দের ধারণা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়ে একটি বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার জেরে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও আসবাবপত্র ও মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে গুমানমর্দন ইউনিয়নের ছাদেকনগর এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি মুখোশধারী দল বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির আসবাবপত্র তছনছ করার পাশাপাশি সামনে থাকা একটি প্রাইভেট কারে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় আনিসুল ইসলাম ও তার পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো তারেক আজিজ জানিয়েছেন পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
















