অবকাঠামো সম্পন্ন হলেও বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে থমকে আছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান
চুয়াডাঙ্গায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা বিসিক শিল্পনগরী চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো উৎপাদনে যেতে পারেনি। অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কার্যকর সংযোগ না থাকায় শিল্পকারখানা চালু করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় স্থাপিত শিল্পনগরীটি ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল—স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পায়ন জোরদার করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তাদের জন্য পরিকল্পিত শিল্প অবকাঠামো নিশ্চিত করা। কিন্তু চার বছরেও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন হয়নি।
বিসিক সূত্র জানায়, শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দ, সড়ক, ড্রেনেজ ও সীমানা প্রাচীরসহ প্রাথমিক অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ না থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে প্লট বরাদ্দ নেওয়া অনেক উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করেও কারখানা স্থাপনে এগোতে পারছেন না।
স্থানীয় উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেন, শুরুতে দ্রুত সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর অগ্রগতি নেই। কেউ কেউ ব্যাংক ঋণ নিয়ে জমি উন্নয়ন করেছেন, কিন্তু উৎপাদন শুরু করতে না পারায় আর্থিক চাপে পড়ছেন।
চুয়াডাঙ্গা বিসিক শিল্পনগরীর একাধিক প্লট মালিক জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ছাড়া শিল্প চালানো অসম্ভব। দীর্ঘসূত্রতা চলতে থাকলে অনেকেই বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এদিকে বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি শিল্পনগরী দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকলে তা শুধু উদ্যোক্তাদের ক্ষতিই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরিকল্পিত শিল্পায়ন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সময়ানুবর্তিতা জরুরি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চুয়াডাঙ্গা বিসিক শিল্পনগরী দ্রুত উৎপাদনে গেলে জেলায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। কিন্তু চার বছর পেরিয়েও বাস্তব উৎপাদন শুরু না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
















