জুলাই বিপ্লবকে আইনি ভিত্তি দিতে গণভোটের দাবি; নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দায় ইন্টেরিম সরকারের—খুলনা সমাবেশে বক্তৃতা।
খুলনায় ৮ দলের সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, ইন্টেরিম সরকার ব্যর্থ হলে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। জুলাই বিপ্লবের সনদ আইনি ভিত্তিতে গণভোট আয়োজন এবং নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা না তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
খুলনায় আন্দোলনরত ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে ইন্টেরিম সরকারের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে দুটি অংশে বিভক্ত—“৭২-এর বাকশালপন্থি ও ২০২৪ সালের বিপ্লবপন্থি শক্তি।” এই অবস্থায় ইন্টেরিম সরকার যদি ব্যর্থ হয়, “ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না”—এ মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার বিকেলে খুলনার বাবরী চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে তিনি দাবি করেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই বিপ্লবের সাফল্য কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
“ফ্যাসিবাদ বাংলার মাটিতে আর ফিরে আসবে না”— উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন জরুরি।
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার দায় সরকারের
মামুনুল হক বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ ভোটে’ বাক্স ভরতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন,
“নির্বাচনে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।”
তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনাও করেন।
সমাবেশে বহুদলীয় নেতৃত্ব
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, জাগপা, বিডিপিসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা এতে বক্তব্য দেন।
কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন দলের বক্তারা জুলাই বিপ্লবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, গণভোট আয়োজন এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরেন।
















