ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় টানা বর্ষণ ও ঘূর্ণিঝড়জনিত বন্যা–ভূমিধসে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাজারো মানুষ এখনো দুর্ভোগে, আর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিটি দেশেই চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম।
সোমবার উত্তর সুমাত্রায় পৌঁছে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো জানান, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দুর্গতদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো। তিনি বলেন, “কয়েকটি প্রত্যন্ত গ্রামে আমরা পৌঁছাতে পারব বলে আশা করছি,” এবং হেলিকপ্টার–বিমান মোতায়েনের কথা জানান।
ইন্দোনেশিয়ায় অন্তত ৪৪২ জনের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার চাপ বাড়ছে। দেশটির সরকার এরই মধ্যে দুটি হাসপাতাল জাহাজ ও তিনটি যুদ্ধজাহাজ ত্রাণ বহন করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠিয়েছে। অনেক এলাকা এখনো যান চলাচলের অযোগ্য।
পশ্চিম সুমাত্রার পদাং থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের সুংগাই নিয়ালো গ্রামে জল নেমে যাওয়ার পর বাড়িঘর, ফসল আর যানবাহন ঘন কাদায় ঢেকে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস বলেন, বেশিরভাগ মানুষ ঘর ছেড়ে যেতে চাননি।
শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় দিতোয়া–জনিত বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ। সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার দিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে। রবিবার উদ্ধার অভিযানের সময় এক হেলিকপ্টার বৈমানিকের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে দেশটির বিমান বাহিনী।
রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা ডিসানায়েকে জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, “দেশের ইতিহাসে আমরা সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। আমরা অবশ্যই আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে পুনর্গঠন করব।”
থাইল্যান্ডে দক্ষিণাঞ্চলের বন্যায় মৃত্যু বেড়ে অন্তত ১৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা বাড়ায় দুই স্থানীয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার পার্লিস অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট প্লাবনে দুজন নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যাচ্ছে। ফিলিপাইনে দুই সপ্তাহে দুটি টাইফুনে প্রাণ গেছে ২৪২ জনেরও বেশি। ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বন্যা তীব্র হয়েছে সুমাত্রায় আছড়ে পড়া একটি বিরল উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড়ের প্রভাবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ছে, এবং উষ্ণ বায়ুমণ্ডল আরও বেশি আর্দ্রতা ধারণ করায় চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।
















