ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বহুমাত্রিক, তাই কোনো ইস্যু থেমে থাকবে না—বললেন মো. তৌহিদ হোসেন
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, তিস্তার পানি, সীমান্ত হত্যা ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ—সব বিষয়ই একসঙ্গে চলবে এবং একটির ওপর অন্যটির প্রভাব পড়বে না। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বহুমাত্রিক, তাই প্রতিটি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতেই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তার ভাষায়, তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা বা পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ—কোনো ইস্যুই পৃথক নয় এবং সবগুলোই সমান্তরালে এগোবে। কোনো বিষয় আটকে থাকার কারণে অন্য ইস্যুর অগ্রগতি থেমে যাবে—এ ধারণা ভুল।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত আলোচনায় তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বহুমাত্রিক হওয়ায় এক-দুইটি ইস্যুর কারণে সম্পর্ক থেমে থাকার সুযোগ নেই। “তিস্তার পানি হোক, সীমান্ত হত্যা হোক বা শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়—সবই পাশাপাশি থাকবে। এগুলো একটি আরেকটির ওপর নির্ভরশীল নয়,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। “কতদিন লাগবে জানি না। আমরা চাই তারা (ভারত) ফেরত দিক, যাতে রায় কার্যকর করা যায়। তবে এই কারণে অন্য সম্পর্ক বা আলোচনায় বিরতি আসবে না।”
পূর্ববর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে ‘উষ্ণ সম্পর্ক’ থাকলেও জনগণের স্বার্থ কতটা রক্ষা পেয়েছে—সে প্রশ্নও তোলেন তৌহিদ হোসেন। তার মতে, সেই উষ্ণতা ছিল মূলত সরকারের সঙ্গে সরকারের, জনগণের প্রত্যাশা সেখানে প্রতিফলিত হয়নি। “১৫ বছরের উষ্ণ সম্পর্কেও তিস্তা বা সীমান্ত হত্যা—কোনোটার সমাধান হয়নি,”—তিনি মন্তব্য করেন।
সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য ছিল আরও কঠোর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত যেখানে যুদ্ধাবস্থা না থাকলেও নিয়মিত গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়। “এটার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান দেখছি না। তবুও আমরা প্রতিবাদ করে যাচ্ছি।”
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ইস্যুকে উপেক্ষা করা হবে না।
















