বন্দর সংশ্লিষ্ট চুক্তি নিয়ে সরকারের গোপনীয়তা এবং বিদেশি কোম্পানিকে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। বন্দরকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি চুক্তি স্থগিতের দাবি জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বললেন—বিদেশি কোম্পানির হাতে বন্দর দিলে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে
২৫ নভেম্বর ২০২৫ :
বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা নির্ভর করে উল্লেখ করে চলমান বন্দর–সম্পর্কিত চুক্তিগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময় ও পরামর্শসভায় তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চললেও বন্দর পরিচালনা নিয়ে দুইটি চুক্তি “তড়িঘড়ি এবং অস্বচ্ছভাবে” সম্পাদন করা হয়েছে, যা জাতীয় স্বার্থকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তার অভিযোগ—বড় কোনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এবার সেই নীতি মানা হয়নি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং হাইকোর্ট মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে।
সাইফুল হক বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক ধরে দেশ নিজস্ব সামর্থ্যে লাভজনকভাবে বন্দর পরিচালনা করছে। প্রয়োজন হলে বিদেশি প্রযুক্তি বা পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে, তবে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যুক্তিযুক্ত নয়।
তার প্রশ্ন—“দেশের কেউই তো বলেনি যে আমরা বন্দর পরিচালনায় অক্ষম। তাহলে এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত কেন?”
তিনি আরও দাবি করেন, সরকারের ওপর কোনো বাহ্যিক চাপ বা বিশেষ এজেন্ডা কাজ করছে বলেই এমন গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করে সাইফুল হক বলেন, বন্দর–সম্পর্কিত চুক্তি বন্ধ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিও এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান।
















