রাতের আঁধারে হাজার হাজার গাছ কেটে পাচার—বাঁধ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলমের বিরুদ্ধে উপকূলীয় সরকারি বন কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বন উজাড়ে উপকূল রক্ষা বাঁধ ও পরিবেশ হুমকিতে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রশাসন ও বন বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে।
২৫ নভেম্বর ২০২৫ | সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে উপকূলীয় সরকারি বন উজাড়ের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে স্থানীয় বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলম। স্থানীয়দের দাবি—গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর নেতৃত্বে মগধরা ইউনিয়নের বিস্তৃত কেওড়া ও ম্যানগ্রোভ বন রাতে কেটে ফেলা হচ্ছে, আর পাচার হচ্ছে ইটভাটায় ও আশপাশের দ্বীপে।
সরেজমিনে দেখা গেছে—প্রায় ২০ একর এলাকায় হাজার হাজার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। গাছের গুঁড়ি, কাটা ডালপালা ছড়িয়ে আছে বিস্তৃত অঞ্চলে। বাসিন্দারা বলছেন, একটি দল রাত ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত, আরেক দল ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত নিয়মিত গাছ কাটে।
এই বন ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর কোস্টাল গ্রীণবেল্ট প্রকল্পের আওতায় গড়ে তোলা হয়। ফলে বন উজাড়ে উপকূল রক্ষা বাঁধ এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দাবি করেছেন, তিনি নিজ জমির গাছ কাটছেন। তবে বন বিভাগ তা অস্বীকার করে বলছে—কোনো মালিকানা দাবি থাকলে তা যাচাইয়ের আগে গাছ কাটার অনুমতি নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন—তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপকূলীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা—সবই এখন নির্ভর করছে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের ওপর।
















