৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষার যৌক্তিক সময় নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকায় অনশন এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
আজ বুধবার ১৯ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শতাধিক পরীক্ষার্থী জড়ো হয়ে অনশন শুরু করেন। এর আগে ৯ নভেম্বর রোববার তারা আগারগাঁওয়ে পিএসসি কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছিলেন।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পূর্বের বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে লিখিত পরীক্ষার জন্য তিন মাস থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হলেও এবার হাতে রয়েছে মাত্র ৪০ দিন। আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্তকে তারা অযৌক্তিক এবং বৈষম্যমূলক বলে দাবি করছেন। অনেকে মন্তব্য করেন যে এত অল্প সময়ে বিসিএসের বিশাল সিলেবাস শেষ করা সম্ভব নয়।
সরেজমিন শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অবস্থান করছেন। অনেকেই অনশন অবস্থায় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ব্যানারে লেখা ছিল, ৪৭তম বিসিএস লিখিতের জন্য যৌক্তিক সময় চাই, জুলুমের প্রতিবাদে এক হও, স্বপ্ন বাঁচাতে সময় বাড়ান। ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকেও পরীক্ষার্থীরা সেখানে এসেছেন।
শফিকুল ইসলাম নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং পরিবারের আশা এখন হুমকির মুখে। মাত্র ৪০ দিনে এত বড় সিলেবাস শেষ করা বাস্তবসম্মত নয়। আগে সবাইকে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে, আমাদের ক্ষেত্রে কেন ব্যতিক্রম করা হচ্ছে।
নাঈমুল ইসলাম নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, নতুন পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সময়সীমা আরও কঠিন। অভিজ্ঞ পরীক্ষার্থীরা আগেও লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন, তারা কাঠামো জানেন। কিন্তু যারা প্রথমবার লিখিত পরীক্ষা দেবে, তাদের জন্য এত কম সময়ে প্রস্তুতি নেওয়া খুবই কঠিন। কয়েক দিন আগে আমরা পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেমের সঙ্গে দেখা করে পরীক্ষা পেছানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে স্মারকলিপি দিয়েছি। আন্দোলন দীর্ঘ হলে সবার জন্য অস্বস্তিকর হবে, কিন্তু ন্যায্য অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চাই।
অন্যদিকে পিএসসি ইতোমধ্যে ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে। রুটিন অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে চলবে ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ এই আটটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পদ সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় কেবল ঢাকায় পরীক্ষা নেওয়া হবে বলেও কমিশন জানিয়েছে।
















