২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন ও বিশেষ ভাতা, ডাক্তার, প্রকৌশলী ও গবেষকদের জন্য আলাদা প্রণোদনা
ঢাকা, বাংলাদেশ – বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বছর থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি প্রায় ২৪ লাখ (২.৪ মিলিয়ন) সরকারি কর্মচারীকে আচ্ছাদিত করবে, যার মধ্যে সেনা, ব্যাংক কর্মী এবং সরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অন্তর্ভুক্ত।
ফাইন্যান্স উপদেষ্টা ড. সালেহুদ্দিন আহমেদ জানান, নতুন বেতন কাঠামো বর্তমান সরকারের মেয়াদে কার্যকর হবে এবং এর জন্য অর্থ বরাদ্দ হবে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে। বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের মার্চ বা এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে পারে, তবে বাজেট সংশোধন প্রক্রিয়া ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ
জুলাই ২০২৫ সালে গঠিত পে কমিশন প্রধান করেছেন প্রাক্তন অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশন দেশের সরকারি বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত (বর্তমানে ১০:১) নতুন স্কেলে ৮:১ থেকে ১০:১ থাকবে। চিকিৎসা ও শিক্ষাভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য আলাদা প্রণোদনা দেওয়া হবে।
প্রমোশন প্রক্রিয়া ও আলাদা বেতন কাঠামো সমন্বয়
কমিশন সুপারিশ করতে পারে পূর্বের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাতিল করার, প্রমোশন প্রক্রিয়া সহজ করার এবং ব্যাংক, বিদ্যুৎ কোম্পানি, সেনাবাহিনী ও বিচারবিভাগের বেতন কাঠামোকে জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করার।

বাজেট ও অর্থায়ন
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বেতন ও ভাতার জন্য মোট বরাদ্দ ৮৪,৬৮৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ৮২,৯৭৭ কোটি টাকার চেয়ে বেশি।
প্রভাব ও লক্ষ্য
নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বেতন নিশ্চিত করবে, গুরুত্বপূর্ণ পেশায় দক্ষ জনবল আকর্ষণ করবে এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারী নীতির মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সংস্কার।
এছাড়াও, নতুন স্কেলের কারণে প্রাইভেট সেক্টরে বেতন ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়তে পারে। কমিশন অক্টোবর মাসে বিভিন্ন চেম্বার ও পেশাজীবী সংগঠনের মতামত নেবে।
















