১৩ নভেম্বর ঘিরে শক্ত অবস্থানে পুলিশ সন্ত্রাসীদের ছাড় না
ঢাকা, ১২ নভেম্বর ২০২৫ – আসন্ন ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সন্ত্রাস দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নির্দেশনা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন যে, সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
- টহল বৃদ্ধি: ১৩ নভেম্বর ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেট্রোলিং ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
- কেপিআই নিরাপত্তা: ক্রিটিক্যাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (কেপিআই) যেমন – ট্রাইব্যুনাল, মেট্রোরেল এলাকা, রেলওয়ে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
- খোলা তেল বিক্রি বন্ধ: বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা রোধে যেখানে-সেখানে খোলা তেল বিক্রি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- ঢাকায় জোন ভিত্তিক মোতায়েন: ঢাকাকে আটটি জোনে বিভক্ত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে।
- জনগণের প্রতি আহ্বান: জনগণের প্রতি সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সন্ত্রাস দমন ও জামিন প্রক্রিয়া
বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা স্বীকার করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, দুষ্কৃতকারীরা যাতে আর এমন কাজ করতে না পারে, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি এই দুষ্কৃতকারীদের প্রতিহত করতে রাজনৈতিক দল, সচেতন জনগণ এবং সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
এছাড়াও, উপদেষ্টা বলেন, “অনেক সন্ত্রাসী খুব তাড়াতাড়ি জামিন পেয়ে যায়; তারা যেন সহজে জামিন না পায় সে ব্যাপারে [আইনের প্রতি] অনুরোধ করবো। সন্ত্রাসীদের যেন জামিন না দেয়।”
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের চলমান কাজকে আরও বেগবান করার ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এখনো কিছু কিছু অস্ত্র বাইরে রয়ে গেছে। এগুলো যেন আমরা খুব দ্রুত উদ্ধার করতে পারি, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।”
মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আরাকানের দিক থেকে মাদকের চালান আসা কিছুটা কমলেও, তা আশাব্যঞ্জক নয়। তিনি সমাজ থেকে মাদক দূর করতে সবার দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতি ও বাহিনী মোতায়েন
নির্বাচনের প্রস্তুতি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান যে, সব বাহিনীর প্রশিক্ষণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শীঘ্রই একটি মহড়া দেওয়া হবে। বডি ওর্ন ক্যামেরা কেনার প্রক্রিয়াও কয়েকদিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
নির্বাচনে সম্ভাব্য বাহিনী মোতায়েনের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি জানান (শেষ মুহূর্তের আগে নিশ্চিত সংখ্যা বলা সম্ভব না হলেও):
- পুলিশ: দেড় লাখ
- সেনা সদস্য: প্রায় এক লাখ
- বিজিবি: ৩৫ হাজার
- আনসার সদস্য: সাড়ে পাঁচ লাখ
- নৌ বাহিনীর সদস্য: প্রায় চার হাজার
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, নির্বাচন কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো বহিরাগত সন্ত্রাসী দেশে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
















