২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং নীতি বাস্তবায়নের একটি চলমান ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ সৈয়দ আখতার মাহমুদ। তাঁর মতে, কোনো বাজেটের সাফল্য কেবল পরিকল্পনার নিখুঁততার ওপর নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সময়ের সঙ্গে নীতি ও কর্মসূচি সংশোধনের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
বিশ্লেষণে তিনি বলেন, বাজেটের প্রতিটি নতুন উদ্যোগের পেছনে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু অনুমান ও প্রত্যাশা কাজ করে। তবে বাস্তবায়নের আগে নিশ্চিতভাবে জানা যায় না কোনো নীতি বা প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে কি না। তাই বাস্তবায়নের সময় নিয়মিত মূল্যায়ন, জনগণের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিতে পরিবর্তন আনার সক্ষমতাই সফল বাজেট বাস্তবায়নের মূল শর্ত।
তিনি বিশেষভাবে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (ডিএসআর), ‘বাংলাবিজ’ ডিজিটাল বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম, মৎস্য খাতের বিমা, নীল অর্থনীতি এবং ক্রীড়া অর্থনীতি–সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ শুধু নতুন কর্মসূচি নয়; বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ।
লেখকের মতে, সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যর্থতা স্বীকার করা, সফল উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা এবং প্রয়োজন হলে নীতিতে পরিবর্তন আনা। তাঁর ভাষায়, বাজেটকে সত্যিকার অর্থে সফল করতে হলে এটি শুধু ‘আকাঙ্ক্ষাভিত্তিক’ নয়, বরং ‘শিক্ষাভিত্তিক’ বাজেটে পরিণত হতে হবে।
















