মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রত্যাশার তুলনায় কঠোর মুদ্রানীতি সংকেত দেওয়ায় ডলারের মূল্য দ্রুত বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রায়। জাপানি ইয়েন, ভারতীয় রুপি, ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহ, ফিলিপাইনের পেসো ও থাই বাতসহ বেশ কয়েকটি মুদ্রা চাপের মুখে রয়েছে।
মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়ারশ সুদের হার কমানোর পরিবর্তে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশ এবং শ্রমবাজারও শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় ফেডের সুদ কমানোর সম্ভাবনা কমে গেছে। বরং বাজারে সুদ বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ইরান সংকটের কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা জাপানসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
জাপানি ইয়েন ইতোমধ্যে ডলারের বিপরীতে ১৬০-এর নিচে নেমে গেছে, যা ২০২৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, ইয়েনের অবমূল্যায়ন অব্যাহত থাকলে তা ১৭০ এমনকি ২০০-এর দিকেও যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী ডলার এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে মুদ্রার মান রক্ষা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা—এই দুই লক্ষ্য অর্জনে নীতিনির্ধারকদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
















