যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচন। এই নির্বাচনকে শুধু প্রার্থী বাছাই নয়, বরং দলটি ভবিষ্যতে কতটা বামঘেঁষা রাজনৈতিক অবস্থান নেবে তারও এক বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছর নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম ও ডেমোক্র্যাটিক সমাজতান্ত্রিক (ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট) মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির বিজয়ের পর এবার কংগ্রেসনাল আসনগুলোতেও বামপন্থী প্রার্থীরা শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। ফলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু, অর্থনৈতিক বৈষম্য, পুলিশ সংস্কার, অভিবাসন নীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে।
সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি নিউইয়র্কের ১০ম কংগ্রেসনাল জেলায়। সেখানে প্রগতিশীল নেতা ব্র্যাড ল্যান্ডার বর্তমান কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যানকে চ্যালেঞ্জ করছেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রশ্নে দুই প্রার্থীর অবস্থান স্পষ্টভাবে ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি নির্বাচনের কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ) সমর্থিত আরও কয়েকজন প্রার্থীও প্রতিষ্ঠিত ডেমোক্র্যাট নেতাদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। নিউইয়র্কের ১৩তম জেলায় দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের দীর্ঘদিনের কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এসপাইলাটকে চ্যালেঞ্জ করছেন। একইভাবে ৭ম জেলায় ক্লেয়ার ভালদেজ ও আন্তোনিও রেইনোসোর মধ্যকার লড়াইও প্রগতিশীল রাজনীতির ভিন্ন ধারার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ম্যানহাটনের ১২তম জেলায় আবার অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটদের প্রতিযোগিতা চলছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নাতি জ্যাক শ্লসবার্গসহ একাধিক প্রার্থী সেখানে মনোনয়নের লড়াইয়ে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কের এই প্রাইমারি নির্বাচন শুধু স্থানীয় রাজনীতির জন্য নয়, বরং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আদর্শিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লড়াইয়ে নিউইয়র্কের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
















