মাত্র দুই বছর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় এসে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। কিন্তু রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই লেবার নেতা শেষ পর্যন্ত তীব্র জনঅসন্তোষ, দলীয় বিদ্রোহ ও ধারাবাহিক রাজনৈতিক ভুলের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ৪১১টি আসন জিতে বড় বিজয় অর্জন করলেও স্টারমারের লেবার পার্টি মোট ভোটের মাত্র ৩৪ শতাংশ পেয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই সীমিত জনসমর্থন শুরু থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে রেখেছিল।
সমালোচকদের অভিযোগ, স্টারমার কখনোই স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি তিনি কী ধরনের ব্রিটেন গড়তে চান। স্কটল্যান্ডের স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জন কার্টিসের ভাষায়, স্টারমার ছিলেন দক্ষ আইনজীবী, কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতার প্রয়োজনীয় দূরদর্শিতা ও জনসংযোগ দক্ষতার ঘাটতি ছিল তাঁর।
ক্ষমতায় আসার পর জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট, দুর্বল অর্থনীতি এবং জনসেবামূলক খাতের চাপের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় স্টারমারকে। তবে তাঁর সরকারের বেশ কয়েকটি নীতি জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শীতকালীন জ্বালানি ভাতা সীমিত করা, কর বৃদ্ধি এবং প্রতিবন্ধী ভাতা সংস্কারের উদ্যোগ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে এসব বিষয়ে সরকারকে একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়।
দলীয় শৃঙ্খলা ধরে রাখতেও ব্যর্থ হন স্টারমার। গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের সময় নিজ দলের সংসদ সদস্যদের বিদ্রোহ, মন্ত্রিসভায় পদত্যাগ ও পুনর্বিন্যাস তাঁর নেতৃত্বকে দুর্বল করে দেয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়, যা সরকারের ভাবমূর্তিতে আরও আঘাত হানে।
২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি এবং অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তা পাওয়া রিফর্ম ইউকের উত্থান স্টারমারের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। অনেক লেবার এমপি আশঙ্কা করতে থাকেন যে তাঁর নেতৃত্বে পরবর্তী নির্বাচনে দল ক্ষমতা হারাতে পারে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের বড় জয়ের পর। জনপ্রিয় এই নেতা দ্রুত লেবার পার্টির সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে আবির্ভূত হন। দলের ভেতরে পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়ে উঠলে স্টারমারের অবস্থান কার্যত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্টারমার বলেন, দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বিদায়ের মধ্য দিয়ে এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল এবং লেবার পার্টির নেতৃত্বে নতুন প্রতিযোগিতার পথ খুলে গেল।
















