গৃহভিত্তিক শ্রমিকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ৩০ বছর পূর্তিতে ভারতে সমঅধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শ্রম অধিকারকর্মীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া সত্ত্বেও কোটি কোটি গৃহভিত্তিক শ্রমিক এখনো বৈষম্য, কম মজুরি এবং অনিরাপদ কর্মপরিবেশের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গৃহভিত্তিক শ্রমবিষয়ক ঐতিহাসিক কনভেনশন গৃহীত হওয়ার তিন দশক পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ এখনো এটি অনুমোদন করেনি। অথচ এই অঞ্চলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গৃহভিত্তিক শ্রমিক কাজ করেন, যাদের বড় অংশই নারী।
রাজধানী নয়াদিল্লির শ্রমজীবী এলাকায় বসবাসকারী বহু নারী পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যের বিভিন্ন অংশ তৈরির কাজ করেন। দীর্ঘ সময় কাজ করেও তারা খুব সামান্য পারিশ্রমিক পান। শ্রমিকদের অভিযোগ, একই কাজ কারখানায় করলে তারা অনেক বেশি মজুরি পেতেন, কিন্তু ঘরে বসে কাজ করার কারণে তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্য দেওয়া হয় না।
গৃহভিত্তিক শ্রমিকদের অধিকাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতের অংশ। ফলে তারা নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, ছুটি, সামাজিক নিরাপত্তা কিংবা শ্রমিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের এই শ্রমকে প্রায়ই গৃহস্থালির কাজের অংশ হিসেবে দেখা হয়, ফলে তাদের অর্থনৈতিক অবদান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পায় না।
শ্রম অধিকারকর্মীদের মতে, গৃহভিত্তিক শ্রমিকদের কাজকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া, সঠিক পরিসংখ্যান সংগ্রহ, পৃথক আইন প্রণয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা বলছেন, এই শ্রমিকদের অধিকাংশই দারিদ্র্য, সন্তান লালন-পালন এবং সামাজিক বাধার কারণে বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারেন না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নারীদের কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন না হওয়ায় সরকারি তথ্যেও তাদের বড় একটি অংশ অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে। ফলে নীতিনির্ধারণ এবং কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণে বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত হয় না।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, গৃহভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ, শিশুযত্ন সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তাদের শ্রমকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে শ্রম অধিকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
















