চীনের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনের শীর্ষ নেতা। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ১৮টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। চীনা নেতৃত্ব মিয়ানমারে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় পুনর্মিলনের প্রচেষ্টাকে সমর্থনের কথা জানায়।
মিয়ানমারে সামরিক ক্ষমতা গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির নেতৃত্ব ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও চীন বরাবরই অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পাশে রয়েছে। চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও দুই দেশের সম্পর্ক অব্যাহতভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
বৈঠকে সীমান্ত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, অনলাইন জুয়া, টেলিযোগাযোগভিত্তিক প্রতারণা এবং মাদক পাচার দমনে যৌথ উদ্যোগের ওপরও জোর দেওয়া হয়। উভয় পক্ষ এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
আলোচনা শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সীমান্ত পরিবহন, মুক্ত বাণিজ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহযোগিতা, স্বাস্থ্যসেবা এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে ১৮টি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
চীন এরই মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মিয়ানমারে বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি পাইপলাইন, সমুদ্রবন্দর এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। তবে এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই সংঘাতপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও রয়ে গেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
















