ভারতে মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানির নতুন ও উদ্বেগজনক রূপ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ও যৌনায়িত ছবি-ভিডিও তৈরির প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন গবেষক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
কাশ্মীরের ফ্রিল্যান্স মডেল সামরিন আয়ুব প্রথম বিষয়টি বুঝতে পারেন যখন তার সম্পর্কে তৈরি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে তার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয় এবং এআই-নির্ভর কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অপমানজনক বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
আয়ুব জানান, ভিডিওটি এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে পরিবারের সদস্যরাও সেটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে পারতেন। ভিডিও প্রকাশের পর তিনি অনলাইনে ব্যাপক অপমান, হুমকি এবং মানহানিকর মন্তব্যের মুখোমুখি হন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Center for the Study of Organized Hate (CSOH)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ১,৩২৬টি এআই-নির্মিত ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মুসলিম নারীদের যৌনায়িত উপস্থাপনাগুলোই সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ততা বা প্রতিক্রিয়া অর্জন করেছে।
গবেষকদের মতে, আধুনিক এআই প্রযুক্তি এখন খুব সহজেই সাধারণ ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ও আপত্তিকর দৃশ্য তৈরি করতে পারে। এসব কনটেন্ট তৈরি করতে বিশেষ প্রযুক্তিগত দক্ষতারও প্রয়োজন হয় না।
মুম্বাইভিত্তিক অনলাইন নিরাপত্তা সহায়তা সংস্থা মেরি ট্রাস্টলাইন জানিয়েছে, এআই-নির্ভর ভুয়া ছবি ও ভিডিও সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অনেক ভুক্তভোগী লজ্জা, ভয় এবং সামাজিক চাপের কারণে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি এসব কনটেন্ট কেবল ব্যক্তিগত হয়রানির বিষয় নয়; এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিদ্বেষের অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে মুসলিম নারীদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যাতে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে হেয় প্রতিপন্ন করা যায়।
২০২১ ও ২০২২ সালে আলোচিত “সুলি ডিলস” এবং “বুলি বাই” ঘটনার ধারাবাহিকতায় এখন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও দ্রুত ও ব্যাপকভাবে একই ধরনের হয়রানি ছড়ানো হচ্ছে বলে গবেষকরা মনে করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আইন এআই-নির্মিত ভুয়া ছবি বা ভিডিও মোকাবিলায় পর্যাপ্ত নয়। কারণ অনেক ক্ষেত্রে আসল কোনো ছবি তোলা বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা না হলেও ভুয়া কনটেন্টের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সুনাম ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করা সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর নীতিমালা, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইনি কাঠামো দ্রুত হালনাগাদ না করা হলে এআই-ভিত্তিক অনলাইন হয়রানি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।
















