খরা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে নিজ এলাকায় কৃষিকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় জিম্বাবুয়ের হাজারো মানুষ দেশের উর্বর পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এখন অবৈধ বসতি উচ্ছেদে সরকারের কঠোর অভিযানের কারণে তারা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উর্বর মাটি, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং নদীনির্ভর জলসম্পদের জন্য পরিচিত। ফলে খরাপ্রবণ এলাকা থেকে বহু পরিবার জীবিকার আশায় সেখানে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে।
স্থানীয় এক কৃষক জানান, প্রায় দুই দশক আগে তিনি নিজের এলাকা ছেড়ে সেখানে চলে আসেন। চলতি মৌসুমে তার ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে এবং পরিবারের সারা বছরের খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ফসল বিক্রিরও আশা করছেন। কিন্তু সম্ভাব্য উচ্ছেদের আশঙ্কা সেই স্বস্তিকে ম্লান করে দিয়েছে।
সম্প্রতি প্রাদেশিক প্রশাসনের এক বৈঠকে অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমি বরাদ্দে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পরিবেশের ক্ষতি রোধে আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হবে। জলাভূমি, নদীতীর এবং বনাঞ্চলে বসতি স্থাপন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে সম্ভাব্য উচ্ছেদের মুখে থাকা অনেক পরিবারের দাবি, তারা জমি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে আসেননি। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নিজ এলাকায় কৃষিকাজ অসম্ভব হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই নতুন স্থানে চলে এসেছেন।
গবেষকদের মতে, এসব অনানুষ্ঠানিক বসতি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের একটি বেঁচে থাকার কৌশলে পরিণত হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং সামাজিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
মানবাধিকার আইনজীবীরা বলছেন, জলবায়ুজনিত অভিবাসন মোকাবিলায় দেশটিতে এখনো কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ফলে অনেক মানুষ বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জমিতে বসতি গড়ে তুলছেন এবং পরে আইনি জটিলতায় পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র উচ্ছেদ বা আইন প্রয়োগ দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য বৈধ পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
এদিকে উচ্ছেদের আশঙ্কার মধ্যেও অনেক পরিবার নিজেদের জমিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রত্যাশা, সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিস্থিতির সমাধান করবে এবং তাদের বসতি বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
















