ময়মনসিংহ মহানগর (মেট্রোপলিটন) পুলিশ প্রতিষ্ঠা এবং পুলিশের নতুন তিনটি ইউনিট করতে চায় পুলিশ সদর দপ্তর। এ ছাড়া পুলিশ ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও উচ্চপর্যায়ে পদ সৃষ্টি করতে চায়। আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এসব দাবিসহ সাতটি দাবি জানানো হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আগামী ১০ মে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে। সেদিন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী দিনে এবার সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ১১৫ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই পদক পরিয়ে দিতে পারেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বিগত বছরগুলোয় সাধারণত জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হতো। এবার ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় পুলিশ সপ্তাহ পিছিয়ে মে মাসে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ করা হয়। ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন গঠিত হয়। ময়মনসিংহে বর্তমানে দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ হচ্ছে। নগরায়ণের ফলে তীব্র যানজট, শিল্পায়নের ফলে শ্রমিক অসন্তোষ, ধর্মঘট ও দাঙ্গার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। পুলিশ সদর দপ্তর মনে করছে, ১৮ লাখ ৯৮ হাজার ৬৬৩ জনসংখ্যার ময়মনসিংহ মহানগর জেলা পুলিশ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করতে চায় সদর দপ্তর। বর্তমানে দেশের আট বিভাগের মধ্যে সাতটিতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করলেও ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালন করছে জেলা পুলিশ। এ জন্য পুলিশ সপ্তাহে এই বিভাগীয় শহরকে মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাবে পুলিশ সদর দপ্তর।
সূত্র আরও জানায়, এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তর নতুন তিনটি ইউনিট—পরিবেশ পুলিশ, রংপুর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং আলাদা সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের দাবি জানাবে। পরিবেশ পুলিশ গঠনের পক্ষে তাদের যুক্তি, নদী-খাল-বন দখল, বালু-পাথর উত্তোলন, ইটভাটার মাধ্যমে বায়ুদূষণ, পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করছে পুলিশ। তবে বিশেষ একটি ইউনিট থাকলে এ বিষয়ে আরও নজরদারি করতে পারবে।
দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় এক বা একাধিক আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থাকলেও রংপুরে কোনো ব্যাটালিয়ন নেই। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, উত্তরাঞ্চলের চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে ১৫ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, রংপুর নামে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যাটালিয়ন গঠন প্রয়োজন। এ ছাড়া সাইবার জগতে গুজব, জালিয়াতি, বুলিং, পর্নোগ্রাফি, হ্যাকিংয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ পুলিশ এসব তদন্তে হিমশিম খাচ্ছে। এসব মামলার তদন্তের ধরন ভিন্ন হওয়ায় বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ সদর দপ্তর।
সূত্র বলেছে, পুলিশ ক্যাডারের কার্যক্রম গতিশীল করতে পদমর্যাদা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের যথাসময়ে পদোন্নতি নিশ্চিত করার ও উচ্চপর্যায়ে পদ সৃষ্টির দাবিও জানাবে পুলিশ সদর দপ্তর। বিভিন্ন ব্যাচে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চিত অবস্থায় কর্মরত রয়েছেন। ৩০তম পুলিশ ক্যাডার ব্যাচের ১৮১ সদস্য আগামী জুনে চাকরিতে ১৫ বছরে পদার্পণ করবেন এবং ৩১তম ব্যাচের ১৮২ কর্মকর্তার ১৪ বছর হবে। তাঁদের সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা পঞ্চম গ্রেডে উন্নতি হলেও এই দুই ব্যাচ এখনো পদোন্নতির জন্য অপেক্ষমাণ। এ ছাড়া পুলিশের উচ্চপর্যায়ে পদসংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে সদর দপ্তর।
বর্তমানে পুলিশের চারটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (পিটিসি) রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর হবিগঞ্জ ও বরিশালে আরও দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করার প্রস্তাব দেবে সরকারকে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, হাইওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, শিল্প পুলিশ, পিবিআই, রেলওয়ে পুলিশের জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানানো হবে। এ ছাড়া থানা, ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্র, সাবজোন ভাড়া বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজস্ব স্থাপনা ও ভবন করার সুপারিশ করবে। বগুড়ায় শিল্প পুলিশের একটি জোন করার প্রস্তাবও দেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, এবার পুলিশের ১৫ সদস্যকে বিপিএম (সাহসিকতা), ২৫ জনকে বিপিএম সেবা, ২৫ জনকে পিপিএম ও ৫০ জনকে পিপিএম সেবা ক্যাটাগরিতে পদক দেওয়া হবে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ৪০০ জনকে বিপিএম, পিপিএম পদক দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে ১১৭ জনকে, ২০২২ সালে ২৩০ জনকে এই পদক দেওয়া হয়।
পুলিশ সপ্তাহের প্রস্তুতির বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, আগামী ১০-১৩ মে পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য পুলিশের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।














