বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিদেশি অর্থায়ন ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইউএসএআইডি-এর অর্থায়নে পরিচালিত একটি কর্মসূচির অর্থ দেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় পৌঁছেছিল, যা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া একটি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালে বাড়িয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত করা হয়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ শক্তিশালী করা। শুরুতে প্রায় ১৮ লাখ ডলারের এই কর্মসূচির বাজেট বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৯৯ লাখ ডলারে উন্নীত করা হয়।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত ছিল ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, যা রাজনৈতিক দলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহিংসতা কমানো এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদারের কাজ করে বলে জানা যায়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঢাকাভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান—দৈনিক সমকাল, বিটনিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট—এই কর্মসূচির আওতায় অর্থ পেয়েছে। এর মধ্যে সমকালকে প্রায় ২৯ হাজার ডলার, বিটনিককে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ডলার এবং দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টকে তুলনামূলক বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কাজ ছিল রাজনৈতিক সহিংসতার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং বিকল্প শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি প্রচার করা। এছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে প্রায় ২৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। এই অর্থ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার খাতে বরাদ্দ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট অনেক পক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
















