পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামের এক চা-শ্রমিককের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো দুইজন চা-শ্রমিক গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত সারওয়ারদ্দী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের আবু সামাদের ছেলে। আহতরা হলেন একই এলাকার মোস্তফা (৪৫) এবং জাহেরুল ইসলাম (৪৩)। তারা পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের এক চা-বাগানে পাতা কাটার সময় ওই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে৷
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ছয়টার দিকে সারওয়ারদ্দী ও আহতরা সহ আরো কয়েকজন চা-পাতা কাটতে গ্রামের পার্শ্ববর্তী এক চা-বাগানে যায়। চা-পাতা কাটার সময় হঠাৎ আকাশে ঘন কালো মেঘ জমেতে থাকে। পরে হাল্কা বৃষ্টির সাথে বজ্রপাতের কঠিন শব্দ শুরু হয়। কাজ করার একপর্যায়ে বজ্রপাত পড়তে থাকলে ঘটনাস্থলেই সারওয়ারদ্দী সহ আরো দুজন চা-শ্রমিক সাথে সাথেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে অন্যান্য চা-শ্রমিকরা তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসেন। পথিমধ্যেই মারা যায় সারওয়ারদ্দী। আর গুরুতর আহত দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয় পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনরা জানান, পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু স্থান ও গাছের নিচে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের মো. দুলাল চা-বাগানের কর্মরত শ্রমিক সারয়ারদ্দীর মৃত্যু ও আহত দুইজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
















