সুদানের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওমদুরমানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল এখন সংক্রামক রোগ চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩৭ শতাংশ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এখন অচল। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেছে।
রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও চিকিৎসা সুবিধা সীমিত হয়ে পড়েছে। ওমর ওসমান নামে এক শ্রমিক যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রথমে তিনি বিনামূল্যে সেবা পেলেও পরে ওষুধের সংকটে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে বাধ্য হন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যক্ষ্মার পাশাপাশি ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, হাম ও কলেরার মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকট রয়েছে। যুদ্ধের কারণে হাসপাতালটির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সংঘাতের মধ্যে শতাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং বহু স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর হাসপাতালটি আংশিকভাবে চালু হয়েছে। বর্তমানে বহির্বিভাগ ও কিছু জরুরি সেবা দেওয়া হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে এখনো সময় লাগবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সহায়তা না বাড়লে সংক্রামক রোগের বিস্তার ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে।
















