প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের হয়রানি লাঘব করতে ‘ই-বেইলবন্ড’ বা ইলেকট্রনিক জামিননামা পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে দেশের সকল আদালতে বিস্তৃত করা হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বগুড়াসহ সাতটি জেলায় এই আধুনিক সিস্টেমের উদ্বোধনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল আদালতে এই পদ্ধতি চালু করা গেলে বিচারপ্রাপ্তিতে বিলম্ব ও বৈষম্য দূর হবে, যা একটি প্রকৃত ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির পর দেশে এখন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে আইনের দোহাই দিয়ে শাসন চালানো হলেও সেখানে কোনো ‘ন্যায়বিচার’ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগকে দলীয় আদালতে পরিণত করার সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, আদালত কোনো হয়রানির জায়গা নয়, বরং এটি হওয়া উচিত ন্যায়বিচার পাওয়ার নিরাপদ স্থল। যখন মানুষ আদালতের ওপর পূর্ণ আস্থা পাবে, তখন সমাজ থেকে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামিন পাওয়ার পর আদালতের বিভিন্ন দফতর ঘুরে জামিননামা কারাগারে পৌঁছাতে কয়েকদিন সময় লেগে যেত, যা বিচারপ্রার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ ছিল। তিনি বলেন, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার একে অপরের পরিপূরক, আর ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে একটি উল্লেখযোগ্য ধাপ। আগে যেখানে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ১৩টি ধাপ পার হতে হতো, এখন এই ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে জামিননামা পৌঁছে যাবে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং জামিননামা জালিয়াতির কোনো সুযোগ থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার বিচার ব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়াকেই কম্পিউটারাইজড সিস্টেমের আওতায় এনে আধুনিকায়নের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ই-বেইলবন্ড সিস্টেমকে পুলিশের সিডিএমএস, আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ড ভেরিফিকেশনের সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে গায়বি মামলা ও ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বন্দি করে রাখার যে অপসংস্কৃতি ছিল, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রসেসগুলো সম্পন্ন করার ফলে তা পুরোপুরি উৎপাটন করা সম্ভব হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা এমন এক বিচার ব্যবস্থা গড়তে চাই যেখানে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকের মধ্যে কোনো তফাৎ থাকবে না এবং বিচার বিভাগ থাকবে সম্পূর্ণ স্বাধীন। ন্যায়বিচার কোনো দয়া বা করুণার বিষয় নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।
প্রধানমন্ত্রী জেলখানায় বিনাবিচারে আটকে থাকা প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে আইনমন্ত্রীকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন এবং আইন পেশায় নিয়োজিত সকলকে এই নতুন প্রযুক্তিকে সাদরে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
















