মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধের কারণে কিউবার ঐতিহ্যবাহী সিগার শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পরিবহন সমস্যার ফলে উৎপাদন থেকে বাজারজাত—সব পর্যায়েই প্রভাব পড়ছে।
সরবরাহে বড় ধাক্কা
রাজধানীর একটি সিগার দোকানের ব্যবস্থাপক জানান, দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো চালান আসেনি। আগে মাসে একাধিকবার সরবরাহ এলেও এখন তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড় ও দুর্বল উৎপাদনের কারণে শিল্পটি আগে থেকেই চাপের মুখে ছিল। এর ওপর তেল অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তেল সংকটের প্রভাব
কিউবা তার জ্বালানির বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করায় আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এর ফলে দেশে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে এবং বারবার বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটছে। তামাক চাষেও এর প্রভাব পড়েছে, কারণ অনেক ক্ষেত সেচের জন্য বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।
উৎপাদন ব্যাহত
তামাক পাতা সংগ্রহের পর তা কারখানায় এনে হাতে তৈরি করা হয় সিগার। কিন্তু জ্বালানি সংকটে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় কাঁচামাল পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
কারখানাগুলোতেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিয়মিত উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
রপ্তানি কমে যাচ্ছে
কিউবার সিগার আন্তর্জাতিক বাজারে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে পরিচিত। তবে উৎপাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানিও কমে গেছে।
আগের তুলনায় এখন অনেক কম সিগার বিদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ আরও ধীর হয়ে পড়েছে।
দাম বাড়লেও আয় বাড়েনি
সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিগারের দাম বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্য অনেক বেড়েছে।
তবে কারখানার শ্রমিকরা জানিয়েছেন, এই বাড়তি আয়ের প্রভাব তাদের মজুরিতে পড়েনি। কম আয়ে তাদের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
শ্রমিক সংকটও বাড়ছে
দেশ থেকে ব্যাপক হারে মানুষের বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক কারখানায় আগের তুলনায় অনেক কম শ্রমিক দিয়ে কাজ চলছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে শুধু দাম বাড়িয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রমিক সংকট ও জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিউবার সিগার আরও দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠতে পারে, যা এর মূল্য বাড়াতে পারে।
তবে শ্রমিকদের মতে, এই সংকট তাদের দৈনন্দিন জীবনে আরও কষ্ট বাড়িয়ে তুলছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।
















