যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসেছে ইসরায়েল ও লেবানন। ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে এমন বৈঠক হলেও এর সফলতা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কোথায় ও কারা অংশ নিয়েছে
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন দুই দেশের রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং একে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।
কেন এখন এই আলোচনা
সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
লেবানন চায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি, কিন্তু ইসরায়েল এখনো যুদ্ধ থামাতে রাজি নয়।
ইসরায়েলের অবস্থান
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহ কে নিরস্ত্র করা।
এজন্য ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদে তাদের সামরিক উপস্থিতি থাকতে পারে।
লেবাননের অবস্থান
লেবানন এই আলোচনাকে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছে এবং তাদের মূল লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।
তবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এত দ্রুত সম্ভব নয় বলে দেশটির কর্মকর্তারা মনে করছেন।
হিজবুল্লাহর বিরোধিতা
হিজবুল্লাহ এই আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির নেতা নাঈম কাসেম বলেছেন, এটি তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল।
তাদের মতে, যুদ্ধ চলাকালীন আলোচনা করা মানে আত্মসমর্পণ করা এবং ইসরায়েল আগে লেবানন থেকে সরে না গেলে কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য নয়।
শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা কম। ইসরায়েল যেখানে নিরস্ত্রীকরণের দাবি করছে, সেখানে লেবানন ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের পরিস্থিতি—বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধ—এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
সব মিলিয়ে, এই আলোচনা ঐতিহাসিক হলেও বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
















