হাঙ্গেরিতে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রচারণায় কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও ব্যবহার নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের দল নির্বাচনী প্রচারে এমন ভিডিও ছড়িয়েছে, যা ভুয়া হলেও তা জনমনে প্রভাব ফেলতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে এক সৈন্যকে হত্যা করার দৃশ্য দেখানো হয়। পরে জানা যায়, এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি। ভিডিওটিতে একটি শিশুকে তার বাবার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়, এরপর বাবার মৃত্যুর দৃশ্য দেখানো হয়।
এই ভিডিওটি অরবানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পিটার মাগিয়ারকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রচারণায় দাবি করা হচ্ছে, তিনি ক্ষমতায় এলে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশে নিয়ে আসবেন।
তবে মাগিয়ার ও তার দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই যুদ্ধ বা বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ সমর্থন করে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রচারণায় কৃত্রিম প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও অতীতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, এবার তা আরও বিস্তৃতভাবে দেখা যাচ্ছে।
সরকারপন্থী কিছু সংগঠনও কৃত্রিম ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। একটি ভিডিওতে ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে কথোপকথনের দৃশ্য দেখানো হয়, যা বাস্তবে ঘটেনি। ভিডিওটি লক্ষাধিকবার দেখা হয়েছে।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে তৈরি কিছু ছবিও ছড়ানো হয়েছে, যেখানে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের গ্রেপ্তারের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। পরে এসব তথ্য আংশিক মিথ্যা বলে চিহ্নিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো নির্বাচনী প্রচারণাই এখন ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে। এতে ভোটারদের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অরবানের প্রতিদ্বন্দ্বী এগিয়ে রয়েছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন বেশি, অন্যদিকে প্রবীণদের মধ্যে অরবানের সমর্থন তুলনামূলক বেশি।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ফলাফল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রচারণায় কৃত্রিম প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে যে পক্ষই জয়ী হোক, বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
















