মিরপুর ডিওএইচএস থেকে ডিবির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার; আয়নাঘরের রূপকার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে জিজ্ঞাসাবাদ
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (২৫ মার্চ) গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় তাঁর নিজ বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১০০ বিঘা জমি দখল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং চাঞ্চল্যকর গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ তৈরির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযোগ উঠছিল।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শেখ মামুন খালেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রভাবে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে।
সেই অনুসন্ধানের প্রেক্ষিতে গত বছরের মে মাসে আদালতের নির্দেশে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানা খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজানো এবং বিতর্কিত সামরিক অভিযানের নেপথ্যে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়েও গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন।

আটকের পর শেখ মামুন খালেদকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর এই বিশেষ অভিযানে তাঁর বাসভবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেবল আর্থিক কেলেঙ্কারি নয়, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো নিয়ে তাঁকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এক সময়কার অত্যন্ত ক্ষমতাধর এই গোয়েন্দা প্রধানের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের চলমান শুদ্ধি অভিযানে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















