যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর অস্থির ও কঠোর নীতির মুখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দ্রুত নতুন জোট গড়ার চেষ্টা শুরু করেছে। বহু পুরোনো বিরোধ ভুলে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনার দিকে ঝুঁকছে তারা, যাতে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলেও ইন্দো-প্যাসিফিকসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মিত্র দেশগুলো ‘ইউএস-প্লাস’ কৌশল নিচ্ছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলেও বিকল্প অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে তারা।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট Ursula von der Leyen অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছেন দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি চূড়ান্ত করতে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা এগিয়েছে এবং আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী Mark Carney সাম্প্রতিক সময়ে চীন সফর করে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে বৈঠকে কিছু পণ্যে শুল্ক কমানো এবং চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির আমদানি সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েক বছর আগে হুয়াওয়ে কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যে বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামো গড়ে উঠেছিল, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও হুমকির কারণে তা বড় ধাক্কা খেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সামান্য বাড়লেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি, যা সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ গ্যারি হাফবাওয়ারের মতে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির নিয়মগুলো যুক্তরাষ্ট্র আগের মতো মানছে না—এতে কূটনৈতিক আস্থাও কমেছে। অন্যদিকে এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফারওয়া আমের বলেন, দেশগুলো এখন কৌশলগতভাবে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করছে, যা ওয়াশিংটনের বাইরে বিকল্প বন্ধুত্বের বার্তা দিচ্ছে।
তবে অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে চায় না। কারণ, মার্কিন বাজার এখনো বিশাল এবং বৈশ্বিক প্রভাবও বড়। তাই একদিকে বিকল্প জোট গড়া, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা—এই দ্বিমুখী কৌশলই এখন বিশ্ব কূটনীতির নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে।
















