চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য প্রকাশ করা এক চীনা নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। একজন অভিবাসন বিচারক রায়ে বলেছেন, নিজ দেশে ফিরলে ওই ব্যক্তি নিপীড়নের বাস্তব ও যৌক্তিক আশঙ্কার মুখে পড়বেন।
ওই ব্যক্তির নাম গুয়ান হেং, বয়স ৩৮ বছর। ২০২০ সালে তিনি গোপনে শিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে ভিডিও ধারণ করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব কেন্দ্রে জোরপূর্বক অন্তত দশ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘুকে আটকে রাখা হয়েছে।
২০২১ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর গুয়ান আশ্রয়ের আবেদন করেন। তবে গত আগস্টে তৎকালীন প্রশাসনের ব্যাপক বহিষ্কার অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে উগান্ডায় পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও, বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলে ডিসেম্বরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
বুধবার শুনানিতে বিচারক জানতে চান, আশ্রয়ের ভিত্তি তৈরি করতেই কি তিনি ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করেছিলেন। ভিডিও সংযোগে আটক কেন্দ্র থেকে দেওয়া জবাবে গুয়ান বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য তা ছিল না। তিনি জানান, নিপীড়নের শিকার উইঘুরদের প্রতি সহমর্মিতা থেকেই তিনি এই কাজ করেন।
চীন ছাড়ার পর গুয়ান প্রথমে হংকং, পরে ইকুয়েডর ও বাহামা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। পরে তিনি ভিডিওগুলো অনলাইনে প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে তাঁকে শিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে যেসব স্থাপনাকে তিনি আটক শিবির হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর দৃশ্য ধারণ করতে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ শিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব কেন্দ্রে ব্যাপক নজরদারি, সশস্ত্র পাহারা এবং পালানোর চেষ্টা করলে প্রাণঘাতী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। বন্দিশিবির থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের বর্ণনাও দিয়েছেন।
গুয়ানের আইনজীবী চেন চুয়াংচুয়াং বলেন, তাঁর মক্কেলের মামলা রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তার একটি আদর্শ উদাহরণ। তাঁর মতে, নৈতিক ও আইনি উভয় কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের উচিত গুয়ানকে আশ্রয় দেওয়া।
বিচারক রায়ে বলেন, গুয়ানকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে চীনা রাষ্ট্রের প্রতিশোধের ঝুঁকি রয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়। রায়ে বলা হয়, গুয়ান আশ্রয় পাওয়ার আইনি যোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ চাইলে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে। সে জন্য তাদের হাতে ৩০ দিনের সময় রয়েছে।
















