দুটি ব্যালটে ভোট গণনা ও প্রার্থীর আধিক্যই মূল কারণ; মাঠে থাকবে ১৬ হাজার বিএনসিসি সদস্য
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোট গণনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এবার ভোটারদের দুটি আলাদা ব্যালটে ভোট দিতে হচ্ছে এবং প্রার্থীর সংখ্যাও অনেক বেশি। এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে পোস্টাল ব্যালট যুক্ত হওয়ায় গণনার সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৬ হাজারের বেশি বিএনসিসি সদস্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন এবং প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও অর্ধশতাধিক সাংবাদিক এই ভোটযজ্ঞ পর্যবেক্ষণ করবেন।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইসির এই ব্রিফিং ভোটগ্রহণ পরবর্তী ফলাফল ব্যবস্থাপনার একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরেছে। সচিব জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ওপর কাজের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফলাফল প্রকাশে ধৈর্য ধরার প্রয়োজন হতে পারে।
গণনা বিলম্বের ৫টি প্রধান কারণ
ইসি সচিবের মতে, ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ কাজ করবে:
- দ্বৈত ব্যালট: একই সাথে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার আলাদাভাবে বাছাই ও গণনা করতে হবে।
- প্রার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে এখন ১ হাজার ৯৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। ব্যালট পেপার বড় হওয়ায় গণনায় সময় বেশি লাগবে।
- পোস্টাল ব্যালট: প্রবাসী ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রে পৌঁছালে তা গণনায় অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন।
- রিটার্নিং কর্মকর্তার চাপ: একজন রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে একাধিক আসন থাকলে চূড়ান্ত ফলাফল সমন্বয়ে দেরি হতে পারে।
- ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি: গড়ে প্রতি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি করে কেন্দ্র থাকায় চাপ সামলানো একটি বড় ফ্যাক্টর।
মোবাইল ব্যাংকিং ও অর্থ লেনদেন
নির্বাচনকালীন লেনদেন নিয়ে ইসি সচিব জানান: ১. পুরো বন্ধ নয়: অতীতের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিং (MFS) সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে না। ২. সীমা নির্ধারণ: সন্দেহজনক লেনদেন রুখতে এবং অর্থ পেশি শক্তি ঠেকাতে প্রয়োজনে লেনদেনের ওপর নির্দিষ্ট ‘ক্যাপ’ বা সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা
এবারের নির্বাচন বিশ্ববাসীর নজরে রয়েছে:
- পর্যবেক্ষক দল: ৩৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ২৬টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেই প্রায় ৩০০ সদস্যের একটি দল আশা করা হচ্ছে।
- স্বেচ্ছাসেবক: নির্বাচনি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৬ হাজার বিএনসিসি সদস্যকে নীতিগতভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
- আচরণবিধি: প্রচারণার প্রথম দিনেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিভিন্ন স্থানে জরিমানা ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব ও আইনি জটিলতা
টিআইবি-র প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সচিব বলেন, তথ্য গোপন করে কেউ প্রার্থী হলে এবং তা প্রমাণিত হলে কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আদালতের নির্দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জন নতুন প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যা চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে পরিবর্তন আনতে পারে।














